ফরিদপুরে চাকরির প্রলোভনে অপহৃত বিদেশফেরত যুবক আকাশ সরদারের (২১) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের একটি ড্রেন থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার রহমত বেপারীপাড়া চাঁদপুর এলাকার করিম সরদারের ছেলে। প্রায় তিন মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে বেকার থাকায় তিনি চাকরির সন্ধান করছিলেন।
জানা যায়, মামলা দায়েরের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদারের ধারাবাহিক তদন্তে আকাশের অবস্থান ও ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু বেরিয়ে আসে। পরে র্যাবের সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের একটি ড্রেন থেকে আকাশের লাশ উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু (৩০) আকাশকে তার বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যান। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইলে ফোন করে আকাশকে আটকে রাখার কথা জানানো হয়। এরপর আকাশের মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় মামলা করে।
২ আগস্ট আকাশের বাবা করিম সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলাটি করেন। এতে মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু, অপু মিয়া (২৫) ও সুমন মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এজাহারে আকাশকে চাকরির প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়।
মামলা হওয়ার পর থেকেই ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। ওসি মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদার মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, বিভিন্ন সূত্র যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে র্যাবের সহযোগিতায় মিঠুকে টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তকারীরা যাচাই করে। এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের ড্রেন থেকে আকাশের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
তবে আকাশকে অপহরণের পর কিভাবে তার মৃত্যু হলো, হত্যার সাথে কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ কী— এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি। তদন্তের পরবর্তী ধাপে এসব বিষয় উদ্ঘাটনের পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান।
তিনি জানান, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে আকাশের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যও বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।



