মিরসরাইয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা, পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর তাগিদ

ইফতারের পর ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকে পুরো এলাকায়। পোশাক, জুতা, ব্যাগ ও কসমেটিকসের দোকানে চলছে জমজমাট বেচাকেনা আর দর কষাকষি।

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Chattogram
কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতা ও বিক্রেতারা
কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতা ও বিক্রেতারা |নয়া দিগন্ত

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। বিশেষ করে ইফতারের পর ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকে পুরো এলাকায়। পোশাক, জুতা, ব্যাগ ও কসমেটিকসের দোকানে চলছে জমজমাট বেচাকেনা আর দর কষাকষি।

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের শুরুতে বিক্রি কিছুটা ধীরগতির থাকলেও দ্বিতীয় দশক থেকে বাজারে গতি ফিরেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতাদের ভিড় বেশি।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, আগের বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। দাম বেশি হলেও পছন্দের জিনিস কিনতে কার্পণ্য করছেন না বলে জানান তারা।

বুধবার (১১ মার্চ) উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঈদের কেনাকাটা করতে পারে, এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার অনুরোধ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নানা বয়সী ক্রেতার ভিড়ে সরগরম উপজেলার বিভিন্ন বিপণি বিতান। ধুম ইউনিয়নের মোবারকঘোনা এলাকা থেকে কেনাকাটা করতে এসেছেন গৃহিণী শামীমা সুলতানা। বারইয়ারহাট লাকি ফ্যাশন মলে কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, ‘এক জায়গায় সবকিছু পাওয়া যায় বলেই এখানে আসি। বেশি জিনিস থাকায় এখানে পছন্দমতো সব পাওয়া যায়। একদাম হওয়াতে দরদামে সময় লাগে না।’

ক্রেতা টানতে উপজেলার বিপণি বিতানগুলোতে আলোকসজ্জার পাশাপাশি নিত্য নতুন পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছরের মতো এবারও মার্কেটে পুরুষের চেয়ে নারী ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। বেচাকেনা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে দেশী ও বিদেশী বিভিন্ন পোশাকে সাজানো হয়েছে উপজেলার মার্কেটগুলো।

দেশীয় জামদানি, টাঙ্গাইল ও তাঁতের নতুন ডিজাইনের শাড়িসহ নারীদের বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে। ফ্যাশনের পাশাপাশি ঐতিহ্যতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন নারীরা। আর প্রচুর কালেকশনের পাশাপাশি দাম স্বাভাবিক থাকায় খুশি তারা। দোকানগুলো শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, জুতা, বাচ্চাদের নানা রঙের কাপড় দিয়ে সাজানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বারিশ থ্রিপিস, দিল্লি বুটিকস, ছোট মেয়েদের নায়রা ও গাউনসহ নানা ধরনের আইটেম বেশি চলছে। এবারের ঈদে শাড়ি কালেকশনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- কানি সিল্ক, জামদানি, কোটা জামদানি, হাড্ডি কাতান, খাদ্দি কাতান। থ্রিপিস কালেকশনের মধ্যে রয়েছে- ফারসি, গাউন, পাকিস্তানী, লেহেঙ্গা, সারারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বড় ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র বারইয়ারহাটের মসজিদ গলির লাকি ফ্যাশন মল ও সেঞ্চুরী মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর বিপণি বিতানগুলো। পুরুষের তুলনায় নারীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। এবার নতুন কালেকশনের মধ্যে রয়েছে ভাইরাল ও ফারসি। এছাড়া সারারা, আলিয়া কার্ড, সাদা বাহার, ওয়াকা, সাকিরা, তেরেনাম, সোহানাসহ নানা ধরনের নিত্য নতুন ডিজাইনের পোষাক রয়েছে।

ঈদকে ঘিরে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে বারইয়ারহাটের গ্রীণ টাওয়ারের অর্কিড, হোম প্লাস, সুলতান, সেঞ্চুরী সুপার মার্কেট, মসজিদ গলির লাকি ফ্যাশন মল, আল আমিন মার্কেট, জমিদার মার্কেট, জোরারগঞ্জ, আবুরহাট, মিঠাছরা, বামনসুন্দর দারোগাহাট, আবুতোরাব, মিরসরাই সদরের মোজাম্মেল অ্যান্ড আজিজুল টাওয়ার, কাশেম শপিং কমপ্লেক্স। শাড়ি-থ্রিপিসের পাশাপাশি প্রসাধনী, পারফিউম, কসমেটিক সামগ্রী, জুতাসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করছেন ক্রেতারা।

বারইয়ারহাট মসজিদ গলির হাসান সুজ, অহনা সুজ, আয়েশা সুজ, গ্রীন টাওয়ারে অবস্থিত লটো, বাটা, এপেক্স বারইয়ারহাটের নূর সু গ্যালারী, মিঠাছরার জুতার হাট শোরুমে ভালো কেনাবেচা লক্ষ্য করা গেছে। বিক্রির দিক থেকে এবারো শীর্ষে থাকতে পারে বারইয়ারহাটের ঐতিহ্যবাহী লাকি ফ্যাশন মল, মিঠাছড়ার খাজা ক্লথ ও আবুতোরাবের ভূঁইয়া ক্লথ স্টোর।

বারইয়ারহাট লাকি ফ্যাশন মলের স্বত্বাধিকারী মো: শামসুদ্দিন বলেন, ‘রমজানের প্রথমদিকে বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে গতি বেড়েছে। রাত ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে। এবার লোকজনের ঝামেলা অন্য বছরের তুলনায় কম। তবে বেচাকেনা ভালো আছে। আশা করছি, রমজানের শেষদিকে বেচাকেনা আরো বাড়তে পারে।’

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন ও জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্নে করার জন্য বড় বাজারগুলোতে পুলিশের টহল রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ছিনতাই রোধে থানা এলাকায় পুলিশের কয়েকটি টিম ভাগ হয়ে কাজ করছে।