ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) ক্রমেই বাড়ছে হামের প্রকোপ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরো ২৭ শিশু।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১টা পর্যন্ত হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন স্বজনরা। আইসিইউ সুবিধার অভাবে চিকিৎসকরা স্বল্প খরচে তৈরি বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে অক্সিজেন সাপোর্ট দিচ্ছেন।
সদর উপজেলার রাশেদা বেগম তার আট মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শিশুটির অবস্থা গুরুতর হলেও আইসিইউ না থাকায় বাবল সিপ্যাপেই চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, ‘আইসিইউ সুবিধা থাকলে চিকিৎসা আরো ভালো হতো।’
ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, পানিভর্তি প্লাস্টিক বোতল ও নলের মাধ্যমে তৈরি বিশেষ ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ যুক্ত করে শিশুদের নাকে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা: মাজহারুল আমিন জানান, যেসব শিশুর শ্বাসকষ্ট বেশি এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশন কম, তাদের ক্ষেত্রে বাবল সিপ্যাপ কার্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে অনেক শিশুর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৭ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩৭১ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৪ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২২ শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা: মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘হামের সংক্রমণ রোধে অভিভাবকদের আরো সচেতন হতে হবে। চিকিৎসা সেবা জোরদারে তিনটি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘করোনা মহামারির সময় শিশুদের জন্য আইসিইউ ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হলেও তা এখনো চালু করা যায়নি। তবে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও চিকিৎসকেরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।’
চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত আইসিইউ চালু করা গেলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা আরো কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৭ শিশু। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বাড়লেও এখনো চালু হয়নি শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধা। ফলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের ভরসা হয়ে উঠেছে বাবল সিপ্যাপ পদ্ধতি।



