সোনারগাঁওয়ে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হাসনাত আব্দুল্লাহ

চট্টগ্রামের বন্যা শুরুর সাথে সাথে প্রতিমন্ত্রী হজে আর প্রধানমন্ত্রী বরিশালে

‘বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সাতকানিয়া, আনোয়ারাসহ সমগ্র অঞ্চলে আমার ভাইয়েরা বন্যার কারণে কষ্ট পাচ্ছে। বন্যার মধ্যে সেখানকার বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Sonargaon
সোনারগাঁওয়ে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হাসনাত আব্দুল্লাহ
সোনারগাঁওয়ে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হাসনাত আব্দুল্লাহ |নয়া দিগন্ত

এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সাতকানিয়া, আনোয়ারাসহ সমগ্র অঞ্চলে আমার ভাইয়েরা বন্যার কারণে কষ্ট পাচ্ছে। বন্যার মধ্যে সেখানকার বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, দীর্ঘ সাত দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্যায় আক্রান্ত হলেও এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে ওইসব এলাকায় পর্যাপ্ত সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছায়নি। আমরা দেখতে পেয়েছি, বন্যা শুরু হবার সাথে সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন প্রতিমন্ত্রী হজ করতে বিদেশে চলে গিয়েছেন।’

হাসনাত বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, বন্যা কবলিত মানুষেরা কষ্ট পেলেও আমাদের প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সফরে যাচ্ছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, চট্টগ্রামের বিপদগ্রস্ত মানুষকে সরকারের পক্ষ থেকে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তা প্রতিজনের ভাগে মাত্র ৩০ টাকারও কম পড়ে। অথচ এই চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় রাজস্বে এ বছর হাজারো কোটি টাকা দেয়ার কথা।’

মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় জুলাই পদযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে গর্বের সাথে বলতে শুনেছি—সংবিধান সংস্কার কমিটির নাকি কোনো সংবিধান লেখা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনাকে বলি, যদি এটি না থেকে থাকে, তবে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনও কোনো সংবিধানে নেই। সংবিধান অনুযায়ী তো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার থাকার কথা ছিল শ্রীলঙ্কায়, প্রধানমন্ত্রীর থাকার কথা ছিল লন্ডনে আর আপনার নেতাকর্মীদের ধানখেতে।

মনে রাখতে হবে, এই সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে নতুন বাংলাদেশের অভিমুখ সেট করেছেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আপনারা মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে, বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। এর মূল কারণ হচ্ছে, বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই।

এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তীতে আমরা দেখেছি প্রতিটা জায়গায় সরকার তার কমিটমেন্ট থেকে পিছু হটেছে। বিএনপি সরকারের কাছে হাসিনার বিচার ব্যবস্থা, হাসিনার সচিবালয়, এক্সিকিউটিভ ও ব্যবসায়ীরাও পছন্দের। তবে কেবলমাত্র হাসিনাই অপছন্দের ছিল। আমরা আমাদের অবস্থান থেকে হাসিনার ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছি, কেবল হাসিনাকে নয়। এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে জনআকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে গিয়ে, গণভোটের বিপক্ষে গিয়ে এমন অবস্থান নিয়েছে, যা সরাসরি আমাদের জনআকাঙ্ক্ষার বিরোধী।

শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা কিছু দাবি নিয়ে দাঁড়ালে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের মাদকাসক্ত বলে আখ্যায়িত করেছে। আমরা একজন শিক্ষামন্ত্রী পেয়েছি যিনি স্ট্যান্টবাজি এবং টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ। তিনি সব জায়গায় গিয়েই বলে থাকেন—নকল আর চলবে না।

মন্ত্রী সাহেব, আপনি নিশ্চয়ই বুঝেছেন যে এখানকার শিক্ষার্থীরা আপনার এই স্ট্যান্টবাজি বুঝে গেছে? ২০২৬ সালের এই সময়ে আপনি শিক্ষার্থীদের হাঁটু পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে পরীক্ষা দেওয়াচ্ছেন। এছাড়াও একটা পরীক্ষার প্রশ্নে দুটি সৃজনশীল ভুল দিয়ে রেখেছেন, যা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে বুঝতে পেরেছে। এমন অবস্থায় একজন শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কেমন হয় চিন্তা করেছেন?

মন্ত্রী সাহেব, যাদেরকে ফার্মের মুরগি বলছেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই আপনি আজ মন্ত্রী হয়েছেন, শ্রীলঙ্কা থেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ আসতে পেরেছেন।

পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমীন, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. তারিকুল ইসলাম, যুগ্ম-আহ্বায়ক তুহিন মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁদের সোনারগাঁও মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে জুলাই পদযাত্রা শুরু করে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে দেখা গেছে।