ময়মনসিংহে যাকাতের মাসআলা ও সঠিক হিসাব পদ্ধতিবিষয়ক সেমিনার

সেমিনারে যাকাত ব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, যাকাতের ধর্মীয় তাৎপর্য, যাকাতের অর্থ সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ সিজেডএমের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
যাকাত পদ্ধতিবিষয়ক সেমিনার
যাকাত পদ্ধতিবিষয়ক সেমিনার |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহে যাকাতের মাসআলা-মাসায়েল ও সঠিক হিসাব পদ্ধতি বিষয়ে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের (সিজেডএম) উদ্যোগে নগরীর জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে যাকাত ব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, যাকাতের ধর্মীয় তাৎপর্য, যাকাতের অর্থ সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ সিজেডএমের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সিজেডএমের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্নেল (অব.) মো: জাকারিয়া হোসেন বলেন, ‘যাকাত ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। যাকাতের সঠিক হিসাব ও যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে সমাজে দারিদ্র্য বিমোচন, বৈষম্য হ্রাস ও সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে যাকাতের মাসআলা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকা ও হিসাবের ভুলের কারণে যাকাত আদায়ে ত্রুটি থেকে যায়, যা যাকাতের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আয়, সঞ্চয়, স্বর্ণ-রৌপ্য, ব্যবসায়িক পণ্য, নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমাসহ বিভিন্ন খাতে যাকাতের হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করতে হয়, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।’

এ সময় কাদের ওপর যাকাত ফরজ, কাদের যাকাত দেয়া যাবে এবং যাকাত বণ্টনের শরিয়তসম্মত খাতসমূহ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

ময়মনসিংহ নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব ও স্বদেশ হাসপাতাল (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুদ্দোহা মাসুমের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো আলোচনা করেন ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ফাইন্যান্সের কনসালটেন্ট শায়েখ তারেক মাহমুদ আজহারী ও মুক্তাগাছা আব্বাসিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল আলম।

অনুষ্ঠানে সিজেডএমের প্রতিনিধিরা বলেন, যাকাত একটি পরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হলে তা টেকসই সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যেই সিজেডএম দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যাকাত ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যাকাতের মূল লক্ষ্য হলো গ্রহীতাকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করে স্বাবলম্বী করে তোলা। প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে যাকাত প্রদান করলে তা অধিক কার্যকর ও টেকসই হয়।

সেমিনারে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ইসলামী চিন্তাবিদ ও আগ্রহী মুসল্লিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও যাকাত বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।