ভোলার তজুমদ্দিনে বনবিভাগের দৌলতখান রেঞ্জের আওতায় কেওড়ার বাগান সৃজনের লক্ষে নার্সারী বেডে চারা উৎপাদনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শশীগঞ্জ স্লুইজঘাট নার্সারী বেড সরজমিনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে নার্সারীর জন্য বরাদ্দের বেশিরভাগই বনবিভাগের বিট কর্মকর্তাসহ অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে ডুকেছে।
সরজমিনে দেখা যায়, বেড তৈরিতে লক্ষমাত্রা চেয়ে কম চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। শশীগঞ্জ স্লুইজঘাটের সাথে বেড়িবাঁধের বাহিরে নদীর তীর সংলগ্ন বীজ বপনের সময় ফসলী জমি নষ্ট করা হয়েছে। এতে কৃষকদের একর প্রতি ২৭ হাজার ৫০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে বলে জানান বিট কর্মকর্তা আবুল বাশার।
তবে নার্সারির বরাদ্দ ও চারা উৎপাদনের লক্ষমাত্রার বিষয়টি খুবই গোপনীয় বলে তথ্য দিচ্ছেন না দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষ। যে কারণে নার্সারির বরাদ্দ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা বিট কর্মকর্তা জানান, বরাদ্দের কাগজপত্র রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে আছে।
রেঞ্জ কর্মকর্তায় জানান, ডিএফওর কাছে এভাবে একে অন্যের উপর চাপিয়ে দায় এড়াতে থাকে প্রত্যেকে।
অভিযোগ রয়েছে, নার্সারীর চারপাশে বেড়া দেয়ার জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলেও তা লুটপাট করে বেড়া দেয়ার জন্য শত শত কেওড়া গাছ কেটে আনা হয়েছে। পাশ্ববর্তী বাসন ভাঙ্গা চর ও চর উড়িল হতে বন বিভাগের দৌলতখান সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও শশীগঞ্জ বিট কর্মকর্তা আবুল বাশারের যোগসাজশে ম্যানগ্রোভ বাগানের শত শত গাছ কাটা হয়। আবুল বাশার নার্সারিতে দুই একর জমি দাবি করলেও সব মিলিয়ে এক থেকে দেড় একর জমি হতে পারে নার্সারীতে।
নার্সারিতে কাজ করা শ্রমিকরা জানান, বন বিভাগের নার্সারিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেও ঠিকমত পারিশ্রমিক দেয়া হয়নি। এ নার্সারিতে অনেকেই কাজ করানো পর পারিশ্রমিক দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
বন বিভাগ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শশীগঞ্জ বিট অফিসের আওতায় ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন করার জন্য তজুমদ্দিন এলাকায় একটি নার্সারি বেড তৈরি করা হয়েছে। শশীগঞ্জ বিট অফিসের জন্য আলাদা বরাদ্ধ থাকলেও আংশিক বেড তৈরি করে বাকী টাকা আত্মসাৎ করেন বিট কর্মকর্তা আবুল বাশার। এনিয়ে কাউকে কোনো তথ্য দেয়া হচ্ছে না। সবকিছুই অতি গোপনে করা হয়। যে কারণে নার্সারীর বরাদ্দ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া অত্যন্ত দূরুহ হয়ে পড়েছে। সরকারি বরাদ্দ গোপন করায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি এক হেক্টর জমিতে পাঁচটি বেড হবে। প্রতি বেডে চারা থাকবে দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার। প্রতি বেডের সাইজ হবে চার ফুট লম্বা বাই ৪০ ফুট। এক বেড থেকে অন্য বেডের মাঝে ফাঁকা থাকবে দুই ফুট। সরকারি এসব নিয়মের তোয়াক্কা করেনি বিট কর্মকর্তা আবুল বাশার।
অন্যদিকে নার্সারিতে সাইনবোর্ড দেয়ার নিয়ম থাকলেও কোনো সাইনবোর্ডই ব্যবহার করা হয়নি বাগান সৃজন করা নার্সারীতে। গাছ রোপন করার সময় সর্বনিম্ন গাছ আট ফুট থাকার কথা থাকলেও শশীগঞ্জ বনবিটের বিট কর্মকর্তা আবুল বাশার নিজের দুর্নীতি ঢাকতে তরিঘরি করে তিন থেকে চার ফুট উচ্চতার গাছ তুলে লাগন।
শশীগঞ্জ বিটের অভিযুক্ত কর্মকর্তা আবুল বাশারকে এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘নার্সারির বেড়া দেয়ার জন্য কেওড়া গাছের ডাল পালা কাটা হয়েছে। বাকি বিষয়ে সামনাসামনি কথা বলবো। তখন বিস্তারিত জানাবো।’
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে দৌলতখান রেঞ্জ সাবেক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার নার্সারি বাগান করতে এখনো কোনো বরাদ্দ দেয়নি। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে নার্সারি বাগান তৈরী করি। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে সরকার বরাদ্দ দেবে।’
তবে কত টাকা খরচ করেছে সে বিষয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন প্রজাতন্ত্রের এই কর্মচারী।
বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা আজাদুল কবির বলেন, ‘বন্ধু প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা নার্সারিগুলো করে থাকি। প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ায় এক প্রকার আমাদের পকেটের টাকা দিয়েই করা হয়েছে। বন্ধু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ না দেয়ায় নার্সারি সৃজনের টাকা দেয়নি সরকার।’
তজুমদ্দিনে বনবিভাগের সৃজন করা নার্সারী।



