আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা
বগুড়ার আদমদীঘিতে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সরকারি দফতরে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলায় এসব দফতরের মধ্যে রয়েছে নির্বাচন অফিস, সমবায় অফিস, মহিলা বিষয়ক দফতর, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
সামান্য একটি প্রত্যয়ন বা নাগরিকত্ব সনদের জন্য সেবা গ্রহীতাদের পোহাতে হয় ভোগান্তি। এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রধান কর্মকর্তা কর্মরত না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বও ঘটায় জনসাধারণের ভোগান্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব শূন্য পদে প্রধান কর্মকর্তা নিয়োগ ও সদর ইউনিয়ন পরিষদে একজন ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ে জনসাধারণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতর প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে মানুষ সহজেই নিকটবর্তী দফতর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারে। এ কারণে উপজেলা বর্তমানে জনসাধারণের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তর হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে গত কয়েক মাস ধরে উপজেলা নির্বাচন অফিস, সমবায় অফিস, মহিলা বিষয়ক দফতর, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে প্রধান কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে।
তাছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নেই। যদিও কিছুদিন একজন ইউপি সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তারপর ইউপি সদস্যকে বাদ দিয়ে এসিল্যান্ডকে দিয়ে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। আর এ কারণেই সেবা গ্রহীতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করলেও তাদের কার্যক্রমে দায়সারা মনোভাবের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে এসব দফতরের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটছে এবং সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পাশাপাশি বারবার অফিসে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব, যাতে দ্রুত এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।’



