মালয়েশিয়ার জীবিত প্রবাসীকে নেয়নি এয়ারলাইন্স, ফিরলেন লাশ হয়ে

ভিসা জটিলতায় পড়ে কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অবৈধ হয়ে যান সালাউদ্দিন। ২৬ জানুয়ারি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শূন্য হাতে নিঃস্ব সালাউদ্দীন সবার কাছে মিনতি করে সহযোগিতা কামনা করেন তাকে যেন তার সন্তান-সন্ততির কাছে জীবিত ফেরত পাঠানোর হয়।

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
মৃত সালাউদ্দিন
মৃত সালাউদ্দিন |নয়া দিগন্ত

অসুস্থ মালয়েশিয়া প্রবাসীর জীবিত পরিবারের কাছে ফেরার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হল না। ফিরলেন, তবে লাশ হয়ে। অথচ জীবিত অবস্থায় সব বৈধ ডকুমেন্টস থাকার পরও বিমান কর্তৃপক্ষ তাকে নিতে রাজি হয়নি ‘আকাশপথে ভ্রমণের জন্য ফিট’ লেটারের অজুহাতে। মালয়েশিয়া চিকিৎসা ব্যবস্থা জটিলতার কারণে সময়মত চিকিৎসা না নেয়ায় অবশেষে দেশে ফিরলেন লাশ হয়ে।

অভাবের তাড়নায় ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে ২০২০ সালে মালয়েশিয়ায় আসেন ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রসুল্লাবাদ ইউপির বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো: সালাউদ্দিন। ভিসা জটিলতায় পড়ে কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অবৈধ হয়ে যান সালাউদ্দিন। ২৬ জানুয়ারি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শূন্য হাতে নিঃস্ব সালাউদ্দীন সবার কাছে মিনতি করে সহযোগিতা কামনা করেন তাকে যেন তার সন্তান-সন্ততির কাছে জীবিত ফেরত পাঠানোর হয়।

এসময় এগিয়ে প্রবাসী মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ আলী। তারা প্রবাসী ও দূতাবাসের সহযোগিতায় ১৯ ফেব্রুয়ারি কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর নিয়ে গেলে বৈধ ডকুমেন্টস ও টিকিট থাকার পরও ‘আকাশপথে ভ্রমণের জন্য ফিট’ লেটার না থাকার অজুহাতে তাকে নিতে রাজি হয়নি বাটিক এয়ালাইন্স। কান্নার ভেঙে পড়েন সালাউদ্দিন। অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিক হসপিটালে ভর্তি করা তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবিত পাঠানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ২৪ ফ্রেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন সালাউদ্দিন। শোকের কালো ছায়া নেমে আসে তার পরিবারে ও বাংলাদেশ কমিউনিটিতে। গত ৬ তারিখে সালাউদ্দিনের লাশ নবীনগর গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট না থাকলে কোনো হসপিটাল ক্লিনিক চিকিৎসা দেয় না এবং ভিসা না থাকলে অগ্রিম কয়েক লাখ টাকা ডিপোজিট না দিলে কোনো সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা দেন না। সালাউদ্দিন দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে ভোগছিলেন। ভিসা ও টাকা না থাকায় যথাযথ চিকিৎসা নিতে পারেননি। তার শেষ ইচ্ছা ছিল সে দেশে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হবেন।

কিন্তু তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে যে ডকুমেন্টস ও টাকা সংগ্রহ করতে মাস খানেক সময় লেগে যায়। ততদিনে তার শারিরীক অবস্থা অবনতি হয়ে পড়ে এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।