জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘গত বছর এই মাসে সারাদেশের মতো বরিশালের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে এসেছিল। ১৫ জুলাই বরিশালের সংগ্রামী নারীরাও যুক্ত হয়েছিল ফ্যাসিস্ট তাড়ানোর লড়াইয়ে। গত বছরের টার্গেট ছিল গণভবন, এবারের টার্গেট সংসদ ভবন। আমরা আপনাদের সাথে নিয়ে সংসদে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে বরিশাল নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউতে এনসিপি বরিশাল জেলা ও মহানগর আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিস্ট পতনের পর আশা করেছিলাম, বৈষম্য দূর হবে, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস দূর হবে। আমরা রাজনৈতিক হানাহানিমুক্ত দেশ দেখতে চেয়েছিলাম। চাঁদামুক্ত দেশ দেখতে চেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘বরিশালে আরেকজন শেরে বাংলা জন্ম নেবে, ইনশাআল্লাহ।’
নাহিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশেও নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। খুনি ফ্যাসিস্ট বাহিনীর মার্কা ইলেকশন কমিশন এখনো ধরে রেখেছে, কিন্তু এনসিপিকে মার্কা দিতে গড়িমসি করছে। ইলেকশন কমিশনের ইনটেশন কিন্তু ভালো নয়। আমরা বরিশালবাসীকে সাথে নিয়ে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চাই।’
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আগামী ৩ আগস্ট সারাদেশের মানুষের মুক্তির সনদ জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে বরিশালবাসীকে আসার আহ্বান জানান।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা।
সভায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মাত্র একজন কমিশনারের ভিন্ন মতের জন্য এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন।’
তিনি এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দ্বিচারিতার অভিযোগ করেন।
হাসানাত অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর পায়তারা করছে। তাই তো তারা স্বশরীরে ছাড়াও নির্বাচনী হলফনামা জমাদানের সুযোগ রাখতে চাইছে। আমরা চাইছিলাম স্বশরীরে এসে প্রার্থীকে হলফনামা জমা দিতে হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোন ষড়যন্ত্রের কারণে স্বশরীরে না এসেও হলফনামা প্রদানের ব্যবস্থা রাখতে চাইছে।’
হাসানাত নির্বাচন কমিশন হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘হুদা কমিশনের পরিণতি আপনারা ভুলে যাবেন না।’
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সঞ্চালনায় পথসভায় বরিশাল জেলা ও মহানগরের সমন্বয়রা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদিব, ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু প্রমুখ।



