রংপুরে রেক্টিফাইড স্পিরিট পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর

রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি জয়নুল আবেদীনের বাড়িতে রেক্টিফাইড স্পিরিট অ্যালকোহল পান করে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হন। ঘটনাস্থলে মারা যান বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া ও সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলি (৩৫)। আরো বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
ছবি : নয়া দিগন্ত

রংপুরে হোমিওপ্যাথিক ওষুধালয় থেকে সংগৃহীত রেক্টিফাইড স্পিরিট এলকোহল পানে বিক্রেতাসহ আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে তিন দিনে ৭ জনের মৃত্যু হলো। আরো বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার জাহিদ হাসান জানান, শ্যামপুরে অ্যালকোহল পানের ঘটনায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে নতুন করে দুইজন মারা গেছেন।

মৃতরা হলেন- বদরগঞ্জ উপজেলা গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক ও রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার মৃত্যু মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার মধ্য রাতে মালেকের লাশ নিজবাড়ি এবং রাশিদুলের লাশ শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে ওই ঘটনার স্পিরিট বিক্রেতা কারাবন্দী জয়নাল আবেদীনও মারা যান।

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার অভিজিৎ চৌধুরী জানান, রংপুরের বদরগঞ্জের শ্যামপুর থেকে গ্রেফতার হওয়া মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনকে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নতুন বন্দী হিসেবে কারাগারে আনা হয়। এর কিছুক্ষণ পর তিনি অসুস্থতা বোধ করেন। সাথে সাথেই তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় তিনি মারা যান।

এর আগে, রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি জয়নুল আবেদীনের বাড়িতে রেক্টিফাইড স্পিরিট অ্যালকোহল পান করে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হন। ঘটনাস্থলে মারা যান বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া ও সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলি (৩৫)। আরো বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এছাড়াও একই ধরনের অপর একটি ঘটনায় আরো একজন মারা যান হাসপাতালে। রংপুর মহানগর পুলিশের হাজিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজাদ রহমান জানান, সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর হাজিরহাট থানার বালারবাজারে অ্যালকোহল পান করে অসুস্থ হন সদর কোতয়ালী থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার মৃত অনিল চন্দ্র রায়ের ছেলে মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

ওসি আরো জানান, আরো বেশ কয়েকজন অসুস্থ্ হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ সময় মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। উদ্ধার করা হয়েছিল ১০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিটের বোতল। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে।

রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন জানান, স্থানীয় একশ্রেণির হোমিও প্যাথিক চেম্বার থেকে ওষুধগুলো সংগ্রহ করে থাকেন মাদক কারবারিরা। নগরীর একটি হোমিও চেম্বারে অভিযানও চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। আমরা বেশকিছু তথ্য পেয়েছি। এ নিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।