চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় মহিলা জামায়াতের দর্শনা থানা সভানেত্রী ববিতা খাতুনের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে নিজ মহল্লা পৌরসভার শ্যামপুর কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
তার জানাজায় এলাকাবাসী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং জেলার বিভিন্ন থানার জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জানাজাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জানাজার পূর্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল ইসলাম মালিক, নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো: আব্দুল কাদের, দর্শনা থানা আমির মাওলানা রেজাউল করিম, পৌর আমির সাহিকুল আলম অপু, বিএনপি দর্শনা পৌর শাখার সমন্বয়ক মাহবুবুল ইসলাম খোকন, সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, মরহুমার বড় ভাসুর পৌর সমন্বয়ক মো: শরীফ উদ্দিন ও মরহুমার একমাত্র কিশোর ছেলে হাফেজ সাকিন উদ্দিন।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামীর ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত্যুর চরম আঘাত সইতে না পেরে স্ত্রী ববিতা স্বামীর ইন্তেকালের মাত্র ৫৮ ঘণ্টার ব্যবধানে বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৩টায় ইন্তেকাল করেন। এ ঘটনায় দর্শনায় নেমে এসেছে চরম বিষাদ ও গভীর শোকের ছায়া। বাবা-মা উভয়কে হারিয়ে এই দম্পতির দুটি ছোট সন্তান এখন অভিভাবকহীন, সম্পূর্ণ এতিম।
পারিবারিক সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার শ্যামপুর গ্রামের মরহুম শওকত আলী মোল্লার ছেলে সফর উদ্দিন (৪০) সৌদি আরবের আভা শহরে কর্মরত অবস্থায় গত ১০ আগস্ট ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। দীর্ঘ ৯ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ আগস্ট ভোর ৫টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এদিকে প্রবাসে স্বামী স্ট্রোক করার খবর শুনে ১০ আগস্টই মারাত্মক মানসিক আঘাতে স্তব্ধ হয়ে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তার স্ত্রী এবং দর্শনা থানা মহিলা জামায়াতের সভানেত্রী রাখি রাশিদুন নাহার ওরফে ববিতা খাতুন (৩৫)।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকাল সোয়া ৩টায় তিনিও ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে এই দম্পতি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।



