অধ্যাপক আলী রীয়াজ

গণভোটে হ্যাঁ-তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে

‘এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল একসাথে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।’

এরশাদ আলী, খুলনা ব্যুরো

Location :

Khulna
বক্তব্য রাখছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ
বক্তব্য রাখছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ |নয়া দিগন্ত

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ-তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে। আপনি হ্যাঁ-তে সিল দিন, পরিচিত সবাইকে উদ্বুদ্ধ করুন। দেশ পাল্টে দিন।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত এ জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন-দুঃশাসন চায় না। তারা একটি আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে চায়। সাম্য, সমতা আর আনন্দের নতুন দিন আনতে চায়। যেখানে কোনো বাহিনীর হাতে গুম হওয়ার ভয় থাকবে না, গায়েবি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার আতঙ্ক থাকবে না।’

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, ‘হ্যাঁ’ এর প্রার্থী কে? আমি বলি, হ্যাঁ-এর প্রার্থী আপনি, আমি, আমরা সবাই। কারণ ‘হ্যাঁ’ আমাদের উপহার দেবে একটি গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা সেটি।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এই অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে এরইমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে।’

এসব উদ্যোগের পাশাপাশি গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, ‘সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সে উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল একসাথে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।’

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘এই সরকার রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ কিন্তু সংস্কারের পক্ষে প্রচারণা চালানোর দায়িত্ব তার রয়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের গণভোটের হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে বাধা নেই। গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণভোট হয়েছে। সেসব দেশের সরকার প্রধানরা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। ওই পথ আমাদের সংবিধানের দুর্বলতায় তৈরি হয়েছে।’

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: মোখতার আহমেদ। বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো: রেজাউল হক ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে কমিশনার জাহিদ হাসান।

মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।