বিঘাপ্রতি লোকসান ৫ হাজার টাকা

চৌগাছায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কম চাষিদের মাথায় হাত

যশোরের চৌগাছায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় চাষিদের মাথায় হাত। বিঘাপ্রতি লোকসান প্রায় ৫ হাজার টাকা। মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে হতাশায় ভুগছেন পেঁয়াজ চাষিরা।

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)

Location :

Chaugachha
চৌগাছায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কম চাষিদের মাথায় হাত
চৌগাছায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কম চাষিদের মাথায় হাত |নয়া দিগন্ত

যশোরের চৌগাছায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় চাষিদের মাথায় হাত। বিঘাপ্রতি লোকসান প্রায় ৫ হাজার টাকা। মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে হতাশায় ভুগছেন পেঁয়াজ চাষিরা। এ বছর পেঁয়াজের দাম আশানুরূপ না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর চৌগাছা উপজেলায় মোট ১ হাজার ৯৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৭শ’ ৫৩ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে।

উপজেলার মধ্যে ধুলিয়ানী, স্বরুপদাহ, পাতিবিলা, নারায়নপুর ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) উপজেলার সদরে চৌগাছায় ছিলো আজ পাইকারি হাটবার। এ পেঁয়াজের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ চাষিরা জানান, উৎপাদন খরচ, শ্রমিক মজুরি, জমির লিজ, সার ও কীটনাশকের দাম বিবেচনায় এই মূল্য খুবই কম। নগদ অর্থের প্রয়োজনের কারণে অনেক কৃষক মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে সরাসরি বাজারে বিক্রি করছেন। এতে ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কম দামে পেঁয়াজ কিনে নিচ্ছেন।

কৃষকদের দাবি, বাজারে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে তারা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতেন এবং আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে আরো উৎসাহিত হতেন। তারা জানায় এ বছর উৎপাদন খরচও বেশী হয়েছে। ফলে পেঁয়াজ চাষীদের বিঘা প্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।

উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, গত বছর আমি ৩ বিঘা জমিতে (মুড়ি কাটা) পেঁয়াজের চাষ করেছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছিল এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় বেশ লাভ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ বছর ঋণ নিয়ে ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। কিন্তু এখন বাজারে যে দাম দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে ঋণের টাকা পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়বে। সরকার যদি অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ না করে, তাহলে আমাদের মতো চাষিদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। বর্তমান বাজারে পেঁয়াজের যে দাম তাতে আয়-ব্যয় মিলিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।

মান্দারতলা গ্রামের পেঁয়াজ চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি দীর্ঘ বছর ধরে নিয়মিত পেঁয়াজ চাষ করে আসছি। গত বছর পেঁয়াজ চাষ করে প্রায় দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। ভেবেছিলাম, এ বছর ভালো ফলন ও ভালো দাম পেলে সেই লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিয়ে সামান্য লাভ করতে পারবো। কিন্তু বর্তমানে বাজারে যে দর দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে এ বছরও আমাকে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। এভাবে যদি বারবার লোকসান হতে থাকে, তাহলে আমাদের মতো কৃষকদের জন্য কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। তখন বাধ্য হয়ে হয়ত কৃষি কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে হবে।

উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামের বাসিন্দা কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে হলে বীজ কেনা ১২ হাজার, জমি চাষ ২ হাজার, সেচ ২ হাজার, সার ও কিটনাশক ১৫ হাজার, নিড়ানি ৮ হাজার, জমির লিজ ১০ হাজার, উত্তোলন ও প্রসেচ খরচ ১০ হাজার ৫০০ ও বাজার নিতে বহন খরচ ৫ হাজার মিলিয়ে প্রায় ৬৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অনেক কৃষক বিভিন্ন এনজিও এবংসুদে মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন, দাম কম হওয়ায় এখন তাদের মাথায় হাত।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, ‘এ বছর পেঁয়াজের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তবে কৃষকরা দাবি করছেন তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ফলন ভালো হওয়ায় আমদানি বেশি তাই দাম একটু কম।