খানাখন্দে বিপর্যস্ত ধুলন্ডী–পেচারকান্দা সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ধুলন্ডী–পেচারকান্দা সড়কটি বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগপথ। সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও ভাঙনের ফলে ভোগান্তিতে স্থানীয়রা।

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

Location :

Ghior
ধুলন্ডী–পেচারকান্দা সড়কের একাংশ
ধুলন্ডী–পেচারকান্দা সড়কের একাংশ |নয়া দিগন্ত

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ধুলন্ডী–পেচারকান্দা আঞ্চলিক সড়ক এখন যেন দুর্ভোগের আরেক নাম। বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও ভাঙন। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও দেবে গেছে রাস্তা। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও যানবাহনচালকরা। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ছোট যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বালিয়াখোড়া বাজার থেকে ধুলন্ডী হয়ে পেচারকান্দা পর্যন্ত প্রায় পুরো সড়কজুড়েই রয়েছে অসংখ্য গর্ত ও ভাঙা অংশ। বালিয়াখোড়া বাজারে প্রবেশের আগে ইমান আলীর বাড়ির সামনের অংশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে দীর্ঘদিনের ভাঙনে সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যানচালকেরা ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প পথ খুঁজছেন। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের নেমে হেঁটে রাস্তা পার হতে হচ্ছে।

ধুলন্ডী–পেচারকান্দা সড়কটি বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে ঘিওর উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন হাজারো মানুষ। বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও বাজার সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এই পথেই যাতায়াত করে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্য কৃষিপণ্য স্থানীয় হাট-বাজারে পরিবহন করেন এই সড়ক দিয়েই। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

আঙ্গুরপাড়া গ্রামের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকচালক পারভেজ মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। রাস্তার বড় বড় গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সামান্য অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংস্কার ছাড়া এই দুর্ভোগের শেষ নেই।’

স্থানীয় শিক্ষক মাসুদ মিয়া বলেন, ‘স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ সবাই এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থার পরও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।’

বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো: আওয়াল খান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পাশেই একটি বড় পুকুর রয়েছে। বর্ষাকালে পানির চাপে রাস্তার মাটি ধসে যায়। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা টেকেনি। সেখানে স্থায়ীভাবে একটি গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হলে ভাঙন অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।’

ঘিওর উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে। এর আগে, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে অস্থায়ীভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।’

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা তূল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক সংস্কার নয়, ধুলন্ডী–পেচারকান্দা সড়কের টেকসই পুনর্নির্মাণ এবং ভাঙনপ্রবণ অংশে স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।