হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১২ শিশু রোগীকে পৃথক একটি কর্নারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে এক শিশুর হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রোববার (২৮ মার্চ) চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, চমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ডেঙ্গু কর্নার হিসেবে ব্যবহার হওয়া স্থানটিকে এখন হাম কর্নারে পরিণত করা হয়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া শিশুদের সেখানেই রাখা হয়েছে। ভর্তি হওয়া ১২ শিশুর মধ্যে দুইজনের বয়স ছয় মাসের কম, বাকিদের বয়স সাত থেকে ১৫ মাসের মধ্যে। হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের অধিকাংশ কক্সবাজার অঞ্চলের। আমরা এখনো নিশ্চিত করে হাম বলতে পারছি না, তবে রোগীদের আলাদা রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল ইউনিয়নের এক শিশু হামে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ওই শিশুর সংস্পর্শে অন্য কেউ আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের খুঁজে বের করে যারা টিকা নেয়নি বা বাদ পড়েছে তাদের টিকা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া হাটহাজারীর নাঙ্গলমোড়া এলাকায় এক শিশুকে সন্দেহজনক হামের রোগী বলে শণাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা কাশি-হাঁচির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি ও জটিলতা হলে নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো এমএমআর টিকা গ্রহণই এ রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: জাহাঙ্গীর আলম নয়া দিগন্তকে জানান, এক শিশু নিশ্চিত ও ১১ শিশু সন্দেহজনক হামের রোগী হিসেবে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দুই শিশু, মা ও শিশু হাসপাতালে চার শিশু সন্দেহজনক হামের রোগী ভর্তি আছে।
তিনি জানান, আমরা বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। হামের রোগীদের বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আমরা সর্বত্র এ ধরনের রোগীর খোঁজ করছি এবং যারা টিকার আওতায় আসেনি বা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে চিহ্নিত করে টিকা দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামে হামের টিকার সংকট নেই বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম রোগী শণাক্ত হয়। এরপর ১০ জানুয়ারি ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়।



