বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দেশের কল্যাণে জামায়াত নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সংসদেও জামায়াতের প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন।’
শনিবার (২৯ আগস্ট) নগরীর বিআইএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরী মজলিসে শূরার ২য় সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘জামায়াত একটি ঐতিহ্যবাহী, নৈতিকতা ও আদর্শে সমৃদ্ধ দল। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দলটি সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ‘
তিনি বলেন, ‘জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ জনগণের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি বড় ভূমিকা রাখবে।’
তিনি ১১ দলের লংমার্চ সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য নেতা-কর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
অধিবেশনে চট্টগ্রাম মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের পরিচালনায় অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমাদ, ড. অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আবু নোমান, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা: ছিদ্দিকুর রহমান, এস এম লুৎফর রহমান, মাওলানা লিয়াকত আক্তার সিদ্দিকী, হামেদ হাসান ইলাহী, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর, আমির হোসাইন, ফখরে জাহান সিরাজী, আমির ফারুকে আজম, মুহাম্মদ ইসমাইল ও ড. আ ম ম মসরুর হোসাইন প্রমুখ।
অধিবেশনে নগর জামায়াতের মজলিসে শূরার পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাবগুলো হলো-
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সরকারের ব্যর্থতা:
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার শহীদ ও হাজার হাজার আহত-পঙ্গু ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ত্যাগের পর গঠিত বর্তমান সরকার এখনো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করতে পারেনি।
এছাড়া গত ছয় মাসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি সঙ্কট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দেশে খুন, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে জনজীবন অতিষ্ঠ।
এ অবস্থায় ছয় দফা দাবি আদায়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দান পর্যন্ত লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
নগরীর জলাবদ্ধতা ও নাগরিক ভোগান্তি:
সামান্য বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরী পানির নিচে তলিয়ে যায়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় নগরবাসী কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি:
দেশের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয়। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে বন্দর পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার দাবি জানানো হয়।



