শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা রাশেদুল ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা শুধু স্মরণ করলেই হবে না, বরং তা ধারণ করে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। মতপার্থক্যকে মতবিরোধে রূপ না দিয়ে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সেটিকে মতবিরোধে পরিণত করা কোনোভাবেই কল্যাণকর নয়। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করা।’
শনিবার (২৫ জুলাই) নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে ‘জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা ও উলামায়ে কিরামের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এই বিপ্লব আবারো করতে হতে পারে। কিন্তু আমরা যদি এর থেকে শিক্ষা ধারণ করতে না পারি, ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ করতে না পারি এবং করণীয় নির্ধারণ করতে না পারি, তাহলে সামনের দিনগুলো আরো কণ্টকাকীর্ণ হতে পারে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে যেকোনো সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যেভাবে আমরা জুলাইয়ের পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করেছিলাম, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এখন ঐক্য নিশ্চিত করার কাজে আরো ব্যাপকভাবে তৎপর হতে হবে।’
জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা সোলায়মান আহসানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মুফতি আলী হাসান উসামা।
মুফতি আলী হাসান উসামা তার বক্তব্যে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সফলতার প্রধান শক্তি ছিল দল-মতের ঊর্ধ্বে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য। সেই ঐক্যের কারণেই ফ্যাসিবাদের পতন সম্ভব হয়েছিল। ভবিষ্যতেও দেশের মুসলমানরা সেক্যুলার, ইসলামবিরোধী ও সব ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে দেশে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শিক্ষা হলো— ওলামা, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। তাই আলেম সমাজকে শুধু ধর্মীয় ইস্যু নয়; দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-তেলের দাম, জনগণের অধিকার এবং জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের পাশে থাকলে একদিন তারাই আলেমদের জাতীয় নেতৃত্বে দেখতে চাইবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অন্য দল বা মতকে দমনে সময় নষ্ট না করে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একইসাথে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণ, মাদক ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার থাকতে হবে।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমির মো: আব্দুল করিম, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মো: আছাদুজ্জামান সোহেল, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান মিলন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ ও মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার।
এছাড়া মহানগর জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার, বায়তুলমাল সম্পাদক গোলাম মহসীন খানসহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।



