নির্বাচন ঘিরে কক্সবাজারে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার

অভিযানে ১৯টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১০০টি বিভিন্ন ধরনের গুলি ও ৯৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি ড্রোন, একটি ওয়াকিটকি, ১৩ লাখ জাল নোটসহ বিভিন্ন নাশকতা সৃষ্টিকারী দ্রব্যসামগ্রীও জব্দ করা হয়। এছাড়াও ছয় হাজার ২০১টি ইয়াবা, ৫৪১ লিটার দেশীয় মদ, ২৩ লিটার বিয়ার ও ছয় কেজি গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন সরঞ্জামাদি উদ্ধার হয়েছে।

আতিকুর রহমান মানিক, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)

Location :

Eidgaon
সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলন
সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলন |নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারে অভিযান জোরদার করেছে যৌথ বাহিনী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার অঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি যৌথ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

গত এক মাসে পরিচালিত ৬১টি যৌথ অভিযানে ৮০ জন অপরাধীকে গ্রেফতার এবং বেশ কিছু পরিমাণ অস্ত্র, গুলি, মাদক, জাল টাকার নোট ও বিভিন্ন ধরণের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশন কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

১০ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাইয়াজ মোহাম্মদ আকবর সাংবাদিকদের জানান, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সন্ত্রাসী ও অপরাধ দমন, গুজব ও সহিংসতা প্রতিরোধ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং যাবতীয় অপতৎপরতারোধ ও জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টিতে সচেষ্ট রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সর্বমোট ৬১টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, মাদকাসক্ত, ডাকাত সদস্য, কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারি ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ সর্বমোট ৮০ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরো জানান, এসব অভিযানে ১৯টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১০০টি বিভিন্ন ধরনের গুলি ও ৯৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি ড্রোন, একটি ওয়াকিটকি, ১৩ লাখ জাল নোটসহ বিভিন্ন নাশকতা সৃষ্টিকারী দ্রব্যসামগ্রীও জব্দ করা হয়। এছাড়াও ছয় হাজার ২০১টি ইয়াবা, ৫৪১ লিটার দেশীয় মদ, ২৩ লিটার বিয়ার ও ছয় কেজি গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন সরঞ্জামাদি উদ্ধার হয়েছে।

সেনাবাহিনীর ওই কর্মকর্তা আরো জানান, যৌথ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী অপতৎপরতা দমনের ফলে আতঙ্কিত স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে অধিকতর স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ ফিরে এসেছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত টহল কার্যক্রম ও যৌথ অভিযান আরো বেগবান করা হবে।

জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে ১০ পদাতিক ডিভিশন বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে বলেও জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাইয়াজ মোহাম্মদ আকবর।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির রামু সেক্টরের মেজর নাজমুস সাকিব, র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারি পরিচালক এএসপি মো: ফারুক ও পুলিশের কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পিয়ারসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।