পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে মাছ ধরার জাল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেজাউল সরদার (৪৫) নামে এক জেলেকে ধারাল হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া-সংলগ্ন পদ্মা নদীর সোনার চর লালগোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রেজাউল সরদারের সাথে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, সেই বিরোধের জেরে চরকুড়ুলিয়ার নসিরের ঘাট এলাকার মরহুম তালেব মাঝির ছেলে নাইম হোসেন (২৫) কয়েকদিন আগে রেজাউলের মাছ ধরার জাল চুরি করেন। সোমবার বিকেলে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে রেজাউল সরদার নাইমকে একটি থাপ্পড় মারেন। পরে নাইম জালটি ফেরত দেয়ার কথা বলে রেজাউলকে সাথে নিয়ে যায়। পথে রেজাউল সামনে এগিয়ে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পেছন থেকে ধারাল হাঁসুয়া দিয়ে তার ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। গুরুতর আহত রেজাউল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত নাইম।
ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেশী বিশু মণ্ডল রক্তাক্ত অবস্থায় রেজাউলকে পড়ে থাকতে দেখে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে রাত ৮টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতের পরিবারের বরাত দিয়ে প্রতিবেশী সেলিম রেজা জানান, ধারাল হাঁসুয়ার এলোপাতাড়ি কোপে রেজাউলের ঘাড় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে এবং তার একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আশাদুর রহমান আসাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত নাইম হোসেনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।



