তালতলীতে সারের দাবিতে অবস্থানরত দুই কৃষককে কুপিয়ে জখম

আহতরা হলেন উপজেলার ছাতনপাড়া গ্রামের আল আমিন (৪০) ও কাজীরখাল গ্রামের অলিউল্লাহ (২৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় আল আমিনকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অলিউল্লাহ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

ইউসুফ আলী, তালতলী (বরগুনা)

Location :

Taltali

বরগুনার তালতলী উপজেলায় বোরো মৌসুমে সারের সঙ্কটকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সারের দাবিতে অবস্থানরত দুই কৃষককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স আসিফ ট্রেডার্সের গুদামের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান হাওলাদার।

আহতরা হলেন উপজেলার ছাতনপাড়া গ্রামের আল আমিন (৪০) ও কাজীরখাল গ্রামের অলিউল্লাহ (২৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় আল আমিনকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অলিউল্লাহ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বোরো মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে অনেক সময় খুচরা ডিলারদের কাছ থেকে ১৬০০-১৭০০ টাকায় সার কিনতে হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সার খুচরা দোকানে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিলার খলিলুর রহমান হাওলাদার তাদের জানান যে, সারের ট্রলার আসবে এবং আনলোডের পর কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পরে ট্রলারে করে সার আনলোড করা হলেও জানানো হয়, সেটি ড্যাপ সার।

শুক্রবার সকালে কৃষকরা সার নিতে ডিলারের গুদামের সামনে জড়ো হলে দেখতে পান ট্রলার থেকে সার আনলোড করে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সময় কৃষকরা সার পাচারের অভিযোগ তুলে বাধা দেন।

এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শ্রমিকরা কয়েকজন কৃষককে গুদামঘরে আটকে বেধড়ক মারধর করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের হাতে থাকা লোহার হুক দিয়ে দুই কৃষকের মাথায় কোপ দেয়া হয়, এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে ডিলার খলিলুর রহমান হাওলাদারের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, কোনো ডিলার যদি সিন্ডিকেট করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।