রাজধানী ঢাকার ধামরাইয়ে অবস্থিত কৃষ্ণনগর ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেই কোনো চিকিৎসক। প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সের রোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা, উদাসীনতা, গাফলতি ও অবহেলার কারণেই এখনো চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে সকাল ১১টার পর মূল দরজার তালা খুললেও মিলছে না ওষুধপত্র। চার-পাঁচ মাস আগেও এ হাসপাতালের এমন চিত্র ছিল না। বর্তমানে বেশি সময়ই তালা ঝুলানো থাকে। এ যেন দেখার কেউ।
কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সাড়ে ১৪ বছরেও পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে হাসপাতালের মূল ও আবাসিক ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে খুলে খুলে পড়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান জিনিসপত্র।
ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নে কৃষ্ণনগর এলাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামের সাধারণ মানুষদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে সরকারি অর্থে ২০০৬ সালে প্রায় চার একর জায়গায় আধুনিক মানের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়েছিল। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের (সিএমএমইউ) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কর্নেল মো: ফজলুর রশীদ মৃধা।
হাসপাতালের প্রধান ভবনসহ নির্মাণ করা হয়েছে চিকিৎসকদের আবাসিক ভবন, গাড়ির গ্যারেজ, পানির পাম্প ইত্যাদি। দেয়া হয়েছিল বিদ্যুৎ সংযোগসহ, রাখা হয়েছিল নানা সুবিধা।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার মানুষ তাদের আবাদি জমি হাসপাতাল স্থাপনের জন্য ছেড়ে দিলেও সেই সুফল আজও জনগণ ভোগ করতে পাড়েনি।
এক জমিদাতা বলেন, ‘আমরা ৫৫ শতাংশ জমি এই হাসপাতালে নামমাত্র দামে এলাকার স্বার্থে দিয়েছি। কিন্তু সেই আশা আজও পূরণ হয়নি। হাসপাতালটিতে এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে তারা সেবা পাচ্ছেন না। আগেও এখানে ডাক্তার ছিল না, এখন তো চিকিৎসাসেবাই বন্ধ রয়েছে।’
দুঃখ করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল না হয়ে গার্মেন্টস হলেও এলাকার মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করার সুযোগ পেত।’
কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা শফিজুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য এ হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ দিনেও চিকিৎসাসেবা দেয়ার কার্যক্রম চালু হয়নি। এ যেন দেখার কেউ নেই। বর্তমানে প্রায় ছয় মাস ধরে দু’জন নার্স এলেও কোনো চিকিৎসক আসেননি। ফলে কোনো চিকিৎসা এমনকি ওষুধও পাচ্ছে না এলাকার মানুষ। এ সবই হচ্ছে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আহমেদুল হক তিতাস বলেন, ‘সব চিকিৎসককে ধামরাই নিয়ে আসা হয়েছে। এজন্য আপাতত চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে।’



