অসময়ের বৃষ্টিতে পাঁচবিবিতে ফলের ব্যাপক ক্ষতি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অসময়ের বৃষ্টিতে কৃষকদের খিরা, আলুসহ অন্যান্য ফসল পানিতে ডুবে যাওয়ায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা।

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

Location :

Panchbibi
অসময়ের বৃষ্টিতে পাঁচবিবিতে ফলের ব্যাপক ক্ষতি
অসময়ের বৃষ্টিতে পাঁচবিবিতে ফলের ব্যাপক ক্ষতি |নয়া দিগন্ত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অসময়ের বৃষ্টিতে কৃষকদের খিরা, আলুসহ অন্যান্য ফসল পানিতে ডুবে যাওয়ায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা। মার্চ মাসে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না, সেই জন্য এ সময় কৃষকরা মাঠের ফসলের বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন। কিন্তু এ সময়ের ভারি বৃষ্টিতে মাঠের ফসল নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পাঁচবিবিতে ভোরে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়াতে কৃষকরা এমন ক্ষতিতে পড়েন।

উপজেলার ধরঞ্জী, শ্রীমন্তপুর, হাটখোলা, রতনপুর, রায়পুর, পাড়ইল, নন্দইল, সমসাবাদ, কুসুম্বা ও আওলাই ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে ক্ষেতে তুলে রাখা আলু ও তোলার অপেক্ষায় থাকা আলু ক্ষেতে পানি জমে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ বৃষ্টিতে মাঠের খিরা ও পেঁয়াজ ক্ষেতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায়। এছাড়া ভুট্টা, সরিষা ও গম বৃষ্টির কারণে ক্ষেতেই নুয়ে পড়েছে। কৃষকরা ফসল বাঁচাতে জমির পানি সেচে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকরা জানান, বর্তমানে খিরার ভরা মৌসুম চলছে। খিরা বিক্রি করে ঈদের কেনা কাটার স্বপ্ন ছিল, সে স্বপ্ন বৃষ্টিতে শেষ হয়ে গেল।

ধরঞ্জী গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, আমি অনেক স্বপ্ন নিয়ে এক বিঘা জমিতে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে খিরার আবাদ করেছিলাম। আশা ছিল, এবার লাখের বেশি টাকার খিরা বিক্রি হবে। আজকেই খিরা তোলার কথা ছিল। সকালে জমিতে গিয়ে দেখি এক হাঁটু পানি। আমার এত দিনের স্বপ্ন শেষ।

একই গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, বৃষ্টিতে আমার দুই বিঘা জমির অপরিপক্ব গম নুয়ে পড়ে গেছে। এবার আর ভালো ফলনের আশা নেই।

কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, আমার পিঁয়াজের জমিতে হাঁটু পানি জমেছে। পানি বের করার কোনো উপায় নেই। হঠাৎ বৃষ্টিতে আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো। এদিকে জমিতে তুলে রাখা ও তোলার অপেক্ষায় থাকা আলু পানিতে ডুবে যাওয়ায় আমি বিপাকে পড়েছি।

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জসিম উদ্দিন জানান, ‘যে সব জমিতে পানি জমেছে, সেখানে জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। যত দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা হবে কৃষকের জন্য ততই মঙ্গল হবে।’