জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আমরা মানুষের কল্যাণ সাধন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই। আর্ত-সামাজিক উন্নয়নে ওয়ার্ড দায়িত্বশীলদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের পথ কোনোকালেই সহজ ছিল না। কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা করলে সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে ইসলামের বিজয়ের অসংখ্য নজিরও রয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ওয়ার্ড-সভাপতি সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ওই কথা বলেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ থেকে ইসলামী আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আমাদের শীর্ষ দায়িত্বশীলদের শহীদ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জুলুমকারীদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এদেশে ইসলামের শিকড় অনেক গভীরে। আবারো যদি কেউ ইসলামী আন্দোলন নিয়ে ষড়যন্ত্র করে তাদেরকেও লজ্জাজনক পরিণতি বরণ করতে হবে। আমরা যদি আমাদের নীতিতে অটল থাকতে পারি, চারিত্রিক গুণাবলীর দিক দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারি। তাহলে আমাদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।’
তিনি বলেন, আমাদের রাখতে হবে পৃথিবীর জীবনই শেষ নয় বরং আমাদের লক্ষ অনন্তকালের ঠিকানা। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করে এই পৃথিবীতে পাঠিয়ে আখেরাতে চিরস্থায়ী সফল হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। দুনিয়ার পরীক্ষার ব্যর্থতা যেন আমাদের জাহান্নামী না করে দেয়, এব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ইকামতে দ্বীনের আন্দোলনে সক্রিয় থেকে দায়িত্বশীল হিসেবে আমাদের ইহকালীন সফলতা ও পরকালিন মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্র সকল পর্যায়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সবার আগে নিজেদের চারিত্রিক মানকে উন্নত করতে হবে।’
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে মহানগরীর আওতাধিন সকল ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি ও সেক্রেটারিরা অংশ নেন।
শিক্ষাশিবিরে আলোচনা পেশ করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। দারসুল কোরআন পেশ করেন মহানগর জামায়াতের বায়তুল মাল সেক্রেটারি মুফতী আলী হায়দার। এছাড়া শিক্ষাশিবিরে মহানগর ও থানা জামায়াত দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশের জন্য নতুন সঙ্কট অপেক্ষা করছে। ক্ষমতাসীন সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আশা আকাঙ্খাকে জলাঞ্জলী দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। জামায়াতে ইসলামী জুলাই শহীদ ও আহতদের ত্যাগকে বিসর্জন দিতে দিবে না। জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নে দেশপ্রেমিক জনতাকে সাথে নিয়ে জামায়াত সংসদে ও রাজপথে অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে। এদেশে আর কাউকে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়া হবে না।



