মিয়া গোলাম পরওয়ার

চোর-দুর্নীতিবাজদের ভোট দিয়ে ভালো সরকার আশা করা রাজনৈতিক ভ্রান্তি

‘গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে তারা জনগণের দুঃখ ঘোচাতে ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। রাস্তা, স্কুল কিংবা খাল খননের নামে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ আগে ব্যক্তিগত পকেটে ঢুকেছে। ফলে উন্নয়ন হয়েছে দুর্নীতিনির্ভর ও অস্থায়ী।’

ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা

Location :

Dumuria
নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার
নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘তেঁতুল গাছ লাগিয়ে কেউ ফজলি আম আশা করতে পারে না। ঠিক তেমনি চোর, ডাকাত ও দুর্নীতিবাজদের ভোট দিয়ে ভালো সরকার আশা করা রাজনৈতিক ভ্রান্তি।’

তিনি বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও রাসূল সা:-কে মানে না, জনগণের সাথে প্রতারণা করে এবং ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাটে জড়ায় তাদের দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়।’

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারো মাইল বাজারে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আঠারো মাইল বাজার ছাড়াও উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া, কাঠালতলা নূরানী স্কিম মাদরাসা, মঠবাড়িয়া, চুকনগর আশ্রয়ন প্রকল্পে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে তারা জনগণের দুঃখ ঘোচাতে ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। রাস্তা, স্কুল কিংবা খাল খননের নামে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ আগে ব্যক্তিগত পকেটে ঢুকেছে। ফলে উন্নয়ন হয়েছে দুর্নীতিনির্ভর ও অস্থায়ী।’

তিনি বলেন, ‘আল্লাহভীরু, সৎ ও জনস্বার্থে নিবেদিত নেতৃত্ব যতদিন রাষ্ট্রক্ষমতায় না আসবে, ততদিন এই দেশের মানুষ প্রকৃত শান্তি ও ন্যায়বিচার পাবে না। সংসদে আল্লাহর আইন ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলেই রাষ্ট্রে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসতে পারে।’

জামায়াত নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রসঙ্গ টেনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সাইদী সাহেব আজীবন দোয়া করেছেন এই দেশে কোরআনের আইন কায়েম হওয়া দেখে যেন তার মৃত্যু হয়। কিন্তু তাকে সেই দৃশ্য দেখতে দেয়া হয়নি। তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে।’

একইসাথে নিজের দীর্ঘ কারাবাসের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আল্লাহর ইচ্ছাতেই তিনি আবার জনগণের মাঝে ফিরে এসেছেন।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল প্রতীকের দলগুলোই রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। কিন্তু সুবিচার, সুশাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আদালত ও প্রশাসন দলীয়করণের শিকার হয়েছে এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে মামলা, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ১১টি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্নীতি বা লুটপাটের কোনো অভিযোগ নেই। এই রাজনৈতিক ঐক্যকে তিনি দেশের জন্য পরিবর্তনের শেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।’

দল-মতের কারণে বিভাজন নয়, বরং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির সমর্থকরাও আমাদেরই ভাই-বন্ধু। তবে এবার ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে ভোট দেয়ার সময় এসেছে।’

আমির মাওলানা আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলার সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, ডুমুরিয়া উপজেলার আমির মাওলানা মোক্তার হোসাইন, আটলিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান, সেক্রেটারি হাফেজ মঈন উদ্দীন, মাওলানা মোতালেব হুসাইন, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবির নেতা সামিদুল হাসান লিমন, ডা: আব্দুল মান্নান, হাফেজ রবিউল ইসলাম প্রমুখ।