রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়ায় বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের (বিজেসি) মূল্যবান সম্পদ ও পুরনো গুদাম ভেঙে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ তছরুপ এবং একটি কিন্ডারগার্টেনের যাতায়াতের জন্য গুদামের দেয়াল ভেঙে রাস্তা তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রুহিয়া এলাকায় বিজেসির পরিত্যক্ত চত্বরে গিয়ে দেখা যায় এক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। এক সময়ের কর্মব্যস্ত এই পাট গুদামগুলোর টিনের চাল ও কাঠের বিশালাকার কাঠামো খুলে ফেলা হয়েছে। চত্বরের যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভাঙা ইটের স্তূপ। শুধু ভবনই নয়, বিজেসির লোগো সংবলিত ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামগুলো ট্রাক্টরে করে সরিয়ে ফেলার প্রস্তুতি চলছে।
এমনকি চুরির প্রমাণ লোপাট করতে চত্বরের আগাছায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রুহিয়া থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক। তিনি একই সাথে স্থানীয় ব্রাইট স্টার কিন্ডারগার্টেনের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য।
অভিযোগ উঠেছে, নিজের প্রভাব খাটিয়ে ওই স্কুলের যাতায়াতের পথ সুগম করতে তিনি সরকারি গুদামের দেয়াল ভেঙে অবৈধভাবে রাস্তা তৈরি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাইদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘লিজের দোহাই দিয়ে দিনের আলোতে সরকারি সম্পদ লুট করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা মেনে নেয়া যায় না।’
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল হক অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ১.২ একর জায়গা তিনি সরকারি নিয়ম মেনেই লিজ নিয়েছেন। তবে লিজের শর্তে গুদাম বা কোনো স্থায়ী স্থাপনা ভাঙার অনুমতি আছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
অন্যদিকে, ব্রাইট স্টার কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক অশ্বিনী কুমার বলেন, ‘জায়গাটি আব্দুল হক লিজ নিয়েছেন। তবে এভাবে সরকারি স্থাপনা ভাঙা যায় কি না, তা আমার জানা নেই।’
বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের (বিজেসি) রংপুর আঞ্চলিক কর্মকর্তা মশিউর রহমান মণ্ডল মুঠোফোনে জানান, লিজ দেয়া হয় শুধুমাত্র জায়গা ব্যবহারের জন্য, কোনো স্থাপনা ভাঙার জন্য নয়।
তিনি বলেন, ‘ভবন ভাঙা বা সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়ার কোনো অনুমতি কাউকে দেয়া হয়নি। আমরা দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।’



