কলাপাড়ায় বজ্রপাতে ২ জন নিহত, ২ দিনে ২৯ গরুর মৃত্যু

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, তাদের অন্তত ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

হুমায়ুন কবীর, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

Location :

Patuakhali

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বজ্রপাতে নারীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দুই দিনে ২৩ জন কৃষকের অন্তত ২৯টি গরু মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়।

এদিকে, ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, তাদের অন্তত ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজোলার চাকামইয়া ইউনিয়নের পূর্বচাকামইয়া গ্রামে বজ্রপাতে সেতারা বেগম (৫৫) নামে এক কৃষাণীর মৃত্যু হয়। অপরদিকে, ধুলাসার ইউনিয়নে নয়াকাটা গ্রামে ইউনুস মিস্ত্রীর ছেলে মো: জহির দুপুর ১টার দিকে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গেলে বজ্রপাতে মারা যান।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ বলেন, ‘গত মঙ্গলবার ও বুধবার বজ্রপাতে মোট ২৯টি গরু মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছি। এতে খামারিসহ ২৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা পেয়েছি। তবে মৃত গরুর সংখ্যা বাস্তবে আরো বেশি হবে।’

ক্ষতিগ্রস্তদের কয়েকজন হলেন উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, বালিয়াতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার, বালিয়াতলী গ্রামের হাবিবুল্লাহ, রিফিউজিপাড়ার শাহিদা বেগম, মধুখালী ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের আনেচ খান, এনায়েত তালুকদার ও মহিপুর ইউনিয়নের কমরপুর গ্রামের নূর হোসেন।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ের সাথে বজ্রবৃষ্টিতে মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বজ্রপাতে শুধু গাভি নয়; বাছুর ও কোরবানি উপলক্ষে মোটাতাজা করা গরুও মারা গেছে। আর কয়দিন পরে কৃষকেরা এসব গরু বিক্রি করতেন। কৃষকদের সে স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আজিমদ্দিন গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রুহুল আমিন খান বলেন, ‘বুধবার দুপুরে মাঠে বেঁধে রাখা দুধের গরুটি বজ্রপাতে মুহূর্তেই মারা যায়। এতে প্রায় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারিভাবে নগদ অর্থ, খাদ্য ও টিন দেয়া হবে। বজ্রপাতে গবাদিপশু মারা গেছে এমন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’