বেনাপোলে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার প্রতিবাদ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও লং মার্চ টু বর্ডার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ছাত্র-জনতার আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের শার্শা উপজেলা শাখার উপদেষ্টা মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আজকের ছাত্র সমাজ আমাদের বাংলাদেশে ভারতের দাদাগিরি মানবে না। আমাদেরকে আমাদের মতো থাকতে দেন। আমাদের দেশে দাদাগিরি করতে আসলে আমরাও কোনোরকম ছাড় দেব না।’
কর্মসূচিতে ছাত্র নেতারা বলেন, আর্থিক লোভ-লালসার সাথে আপস না করা, গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হাদি ছিল অগ্রসারিতে। তার অসংখ্য ভিডিও, বক্তব্য ও বিবৃতি দেখলে বোঝা যায় বাংলাদেশ তার কাছে কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, এটি ছিল তার অস্তিত্ব, তার বিশ্বাস, তার শ্বাস-প্রশ্বাস। যেখানে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতা-নেত্রী অন্যের লেখা প্রাণহীন বক্তব্য আওড়ান, অথচ বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না, সেখানে হাদি ছিলেন একেবারেই আলাদা। তার কথা ছিল নিজের, তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট, তার চোখে ছিল স্বপ্ন।
তারা আরো বলেন, খুনিরা ধরা পড়লে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সমাজের সামনে প্রকাশ পাবে বলেই দেশবাসীর বিশ্বাস। হাদির ওপর কারা গুলিবর্ষণ করেছে এ নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। আজ ভারত যে ভাবে আওয়ামী সন্ত্রাসীসহ হাদিকে হত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে তা বরদাস্ত করা হবে না।
হাদির হত্যাকারীদের অনতিবিলম্বে আটক করে তাদের ফাঁসির দাবি করেন বক্তারা। বাংলাদেশী সব হত্যাকারী ও পরিকল্পনাকারীসহ শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের আহ্বায়ক আসাদুল্লাহ খালেদ গালিব, সদস্য সচিব মো: সাজেদুর রহমান, মুখ্য সংগঠক মো: নাইমুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সদস্য মো: নাইম সিদ্দিক, বেনাপোল পোর্ট থানা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।



