চুয়াডাঙ্গায় রোপা আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, তবুও লোকসানের আশঙ্কা

রোপা আমন রোপণের ভরা মৌসুম চলছে। আবহাওয়াও অনুকূলে। তবুও মুখে হাসি নেই কৃষকদের। ডিজেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের অনিয়ন্ত্রিত দাম বৃদ্ধি এবং ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
রোপা আমন রোপণে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা
রোপা আমন রোপণে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা |নয়া দিগন্ত

আষাঢ়-শ্রাবণের রোদ-বৃষ্টির খেলা আর বর্ষার পানিতে খাল-বিল কানায় কানায় পূর্ণ হতেই চুয়াডাঙ্গার মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান রোপণের মহোৎসব। আগাম পাট কেটে উঁচু ও নিচু জমি তৈরি করে বীজতলা থেকে চারা তোলা ও সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। পূর্বের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও ডিজেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের অনিয়ন্ত্রিত দাম বৃদ্ধিতে কৃষকদের মুখে হাসি নেই। বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে লোকসানের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিপাত পর্যাপ্ত হওয়ায় আমন রোপণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলেও বাজার পরিস্থিতি কৃষকের প্রতিকূলে। খুচরা বাজারে সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পাওয়ার টিলার মালিকরা প্রতি বিঘা জমিতে হাল চাষ বাবদ ৩০০ টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছেন। আগে যা ছিল ১,৩০০ টাকা, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬০০ টাকায়। এ ছাড়া ধান রোপণে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বিঘা প্রতি বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা।

কৃষকদের হিসেব মতে, গত বছর এক বিঘা জমিতে আমন উৎপাদনে সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকা খরচ হলেও এবার জমি ভাড়া, বীজ, সেচ ও সারসহ মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়া যেতে পারে। তবে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে আলু, পেঁয়াজ ও বিগত বোরো মৌসুমের মতো আমনেও বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের কৃষক সোহাগ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আলুতে লোকসান করে ঋণ নিয়ে বোরো চাষ করেছিলাম, সেখানেও ধানের দাম না পেয়ে বিঘাপ্রতি আড়াই হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। সারের দাম বেশি, ৫০০ টাকার নিচে শ্রমিক পাওয়া যায় না। সব কিছুর দাম বাড়লেও আমাদের ধানের দাম নেই।’

একই উপজেলার আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করা গত মৌসুমের ধান অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে জীবিকার তাগিদে আবারো বুকে আশা বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

দামুড়হুদার কৃষক জাকারিয়া আলমের মতে, ফসলের সঠিক দাম না পেয়ে কৃষকরা দিন দিন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। আমনেও যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না মেলে, তবে জীবিকা নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

তাই উৎপাদিত ধানের যৌক্তিক ও ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন তারা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৩৬ হাজার ৭৮১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, কৃষকরা যাতে আমন চাষে লাভবান হতে পারেন ও ফলন বৃদ্ধি পায়, সে জন্য কৃষি বিভাগ থেকে মাঠে গিয়ে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে রোপণের ভরা মৌসুম চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও ফলন ভালো হলে কৃষকরা অতীতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে লাভবান হতে পারবেন।