কমলগঞ্জের তরুণী শুক্লা সিনহার রহস্যজনক মৃত্যু

মৌলভীবাজার শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকায় শুক্লা সিনহা (২৪) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
কমলগঞ্জের তরুণী শুক্লা সিনহার রহস্যজনক মৃত্যু
কমলগঞ্জের তরুণী শুক্লা সিনহার রহস্যজনক মৃত্যু |নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজার শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকায় শুক্লা সিনহা (২৪) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শহরের একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত শুক্লা সিনহা কমলগঞ্জ উপজেলার তিলকপুর গ্রামের রঞ্জিত সিংহের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজার শহরে একাই বসবাস করতেন শুক্লা সিনহা। তিনি মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার মোছাম্মদ ইয়াফা খানম চৌধুরী ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন এবং শহরের একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

বুধবার দুপুরের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে শুক্লার মা পরিচিতজনদের মাধ্যমে মেয়ের খোঁজ নেয়ার অনুরোধ জানান।

খোঁজ নিতে গিয়ে প্রতিবেশীরা দেখতে পান, ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তারা ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা পেঁচানো অবস্থায় শুক্লা সিনহার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সহকর্মীরা জানান, তিনি শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন এবং কর্মস্থলে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। হঠাৎ এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন তার পরিচিতজনরা।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।