তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা উলিপুরের জেলে পরিবার

ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান থাকলেও অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। গত বছরও একই এলাকায় তিস্তার ভাঙনে ১৫ থেকে ২০টি পরিবার গৃহহীন হয়।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Kurigram
তিস্তার ভাঙন
তিস্তার ভাঙন |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নদীতীরবর্তী জেলে ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। অনেকের বসতভিটার অধিকাংশই নদীগর্ভে চলে গেছে। অবশিষ্ট সামান্য জায়গায় পরিবার নিয়ে জীবনের ঝুঁকি ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে থেতরাই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোকডাঙ্গা মাঝিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জেলে সুশান্ত কুমারের আট শতক বসতভিটার ছয় শতকই গত কয়েক দিনের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশে মা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মানবেতর অবস্থায় বসবাস করছেন তিনি। একই এলাকার আরো কয়েকটি পরিবারও ভাঙনের মুখে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম বজরা ও চর বজরা, থেতরাই ইউনিয়নের মাঝিপাড়া ও ফকিরপাড়া, দলদলিয়া ইউনিয়নের অর্জুন, লাল মসজিদ, ঠুটাপাইকার, রকিদেবসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে একের পর এক আবাদি জমি, বসতবাড়ি ও বড় বড় গাছ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি পরিবার, একটি মসজিদ এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান থাকলেও অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। গত বছরও একই এলাকায় তিস্তার ভাঙনে ১৫ থেকে ২০টি পরিবার গৃহহীন হয়। তারা এখন অন্যের জমিতে অস্থায়ী ঘর তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলে সুশান্ত কুমার বলেন, ‘কয়েক দিনের ভাঙনে আমার আট শতক জমির ছয় শতকই নদীতে চলে গেছে। বাকি অংশটুকুও যদি বিলীন হয়ে যায়, তাহলে পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব জানি না। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে আমার শেষ সম্বলটুকু রক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’

একই এলাকার দুলাল চন্দ্র, বাবলু মিয়া, গোপাল চন্দ্র, পুদিরাম চন্দ্র ও বেলাল মিয়াসহ ভাঙনকবলিত বাসিন্দারা বলেন, ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই অনেকের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাবে।

তাই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ জোরদারের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জিও ব্যাগ দিয়ে তিস্তার ভাঙনরোধে কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’