কৃষি ও যোগাযোগ উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

খাল খনন কর্মসূচিকে আরো জোরদার করে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে সিলেটের কৃষিজমিতে সারা বছর চাষাবাদ সম্ভব হয়।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির |নয়া দিগন্ত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ, কৃষি, সেচ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

শনিবার (৪ জুলাই) সিলেট সদরে অসহায় মানুষের মাঝে জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ এবং রাজারগাঁও জামিয়ুল উলুম মাদরাসা ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘চলমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই হাজার উপকারভোগীর প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। এছাড়া প্রায় ৭০০ জনকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘রাজারগাঁও জামেয়া মাদরাসা ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে তিনতলা বিশিষ্ট এ ভবনটি মাদরাসা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বন্যা বা অন্য যেকোনো দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভবনটিতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কক্ষ, বাথরুম এবং প্রয়োজনীয় অন্য সুবিধা রাখা হয়েছে, যাতে দুর্যোগকালে নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে প্রায় আট কোটি ৭০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন, নতুন রাস্তা নির্মাণ, প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। সাময়িক জলাবদ্ধতা ও সেচের পানির অভাবে যেসব জমি অনাবাদি থাকে, সেগুলোকে চাষাবাদের আওতায় আনতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘খাল খনন কর্মসূচিকে আরো জোরদার করে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে সিলেটের কৃষিজমিতে সারা বছর চাষাবাদ সম্ভব হয়।’

তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করবে।’

সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।