বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামে মা-বাবাদের সেবায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠান মা-বাবার সেবা কেন্দ্রের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১০ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ মেডিক্যাল ক্যাম্পে প্রায় চার হাজার রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবা গ্রহণ করেন।
চিকিৎসা সেবায় অংশ নেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মাওনা আলহেরা হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
স্থানীয়রা জানান, মানবসেবাকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে মা-বাবার সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ মা-বাবাদের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এলাকার সুপরিচিত মানবসেবক সূফী হাজী নজরুল ইসলাম খসরু ভূঁইয়া।
তিনি শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ভূঁইয়া পরিবারের সন্তান। তার বাবা প্রয়াত মো: রহিম উদ্দিন ভূঁইয়া ও মা মোছা: আয়শা সিদ্দিকা। মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে স্থানীয়রা তাকে সূফী দরবেশ উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
নজরুল ইসলাম খসরু ভূঁইয়া জানান, জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি চান তার লালিত মানবসেবার স্বপ্ন আগামী প্রজন্ম ধরে রাখুক এবং আরো বিস্তৃত হোক। এ লক্ষই তিনি মা-বাবার সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, যাতে তার অবর্তমানেও সেবামূলক কার্যক্রম চলমান থাকে।
তিনি আরো জানান, ভাইদের সহযোগিতায় প্রায় ৬ একর জমির ওপর একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, গত প্রায় তিন দশক ধরে ছাত্রজীবন থেকেই মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন নজরুল ইসলাম খসরু ভূঁইয়া। তিনি নিয়মিতভাবে বয়োবৃদ্ধ মা-বাবাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে পায়খানা-পেশাব পরিষ্কার, ওষুধ ও খাবার সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে আসছেন।
পাশাপাশি সারা বছর বিভিন্ন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং জটিল রোগে আক্রান্তদের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে কিংবা স্বল্পমূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থাও করে দিচ্ছেন তিনি।
এছাড়া কয়েক হাজার ছাত্র-যুবক স্বেচ্ছাসেবীকে সাথে নিয়ে তরুণদের মা-বাবামুখী ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন এই মানবদরদী ব্যক্তি। তার ব্যতিক্রমী মানবিক কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।



