জামায়াত আমির

বেকার ভাতা যুবকদের জন্য অপমানজনক, আমরা কর্মসংস্থান গড়ব

‘এই ময়মনসিংহে একটা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কৃষিতে বিপ্লব হয়ে সারাদেশের চেহারা পাল্টে দেয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য যে পরিমাণ পর্যাপ্ত বাজেট, লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল সরবরাহ করা দরকার, তা করা হয় নাই। তারপরেও আমি ধন্যবাদ জানাই, এ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে...।’

সাইফুল মাহমুদ, ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহের জনসভায় বক্তব্য প্রদান করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান
ময়মনসিংহের জনসভায় বক্তব্য প্রদান করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা দেবো না। প্রত্যোকটা তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীর হাতকে আমরা মজবুত দক্ষ কারিগরের হাতে পরিণত করবো।’

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউস ময়দানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী জেলা ও মহানগর এবং ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেছেন, ‘যারা ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে, হকের পক্ষে, মদিনার আদলে ইনসাফ কায়েমের পক্ষে থাকবেন, এবার বাংলাদেশের জনগণ সিদ্বান্ত নিয়েছে, তাদের পক্ষে থাকবে ইনশাল্লাহ।

মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ময়মনসিংহ জেলা আমির আব্দুল করিম, নায়েবে আমির কামরুল হাসান মিলন, আসাদুজ্জামান সোহেল, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ কায়সারসহ ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসন ও নেত্রকোনা জেলার প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। পরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান উপস্থিত সকল প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে প্রার্থীদের সমর্থনে এবং জামায়াত আমিরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘চোরেরা চুরি করে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, আল্লাহ যেন তাওফিক দেন ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে টাকা নিয়ে আসতে পারি। এটা বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের চারগুণ। ওই বাজেট ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, এই ময়মনসিংহে একটা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কৃষিতে বিপ্লব হয়ে সারাদেশের চেহারা পাল্টে দেয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য যে পরিমাণ পর্যাপ্ত বাজেট, লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল সরবরাহ করা দরকার, তা করা হয় নাই। তারপরেও আমি ধন্যবাদ জানাই, এ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া গবেষণা ক্ষেত্রে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছিও কিছু দিতে পারে নাই। আমরা ঘোষণা দিচ্ছি ইনশাল্লাহ যদি আল্লাহতালার ইচ্ছায় আপনাদের মায়াবী হাতে ভোটের মাধ্যমে ইনসাফের পক্ষে রায় আসে, আল্লাহ যদি ১১ দলকে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ নয়, এশিয়া নয়, বিশ্বের বুকে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে ইনশাল্লাহ।

৩০ মিনিট বক্তব্য শেষে ডা: শফিকুর রহমান ময়মনসিংহ বিভাগের ১১টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের মঞ্চে ডেকে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এবারের নির্বাচন ভাগ্য বদলের নির্বাচন। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামী।

বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এই জনসভাটি শেষ হয় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে। জনসভাকে কেন্দ্র করে সার্কিট হাউস ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে। একই দিন সকালে তিনি কিশোরগঞ্জের জনসভায় বক্তব্য রাখেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টার যোগে তিনি ময়মনসিংহে আসেন।