সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা নিয়ে যা বললেন শামীম কামাল

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুল ইসলামের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জনতার দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল। এ সময় তিনি বলেন, ভারতের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে না পারলে সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে না।

সাব্বির আহমেদ লাভলু, লালমনিরহাট

Location :

Lalmonirhat
সীমান্ত হত্যা বন্ধ নিয়ে যা বললেন শামীম কামাল
সীমান্ত হত্যা বন্ধ নিয়ে যা বললেন শামীম কামাল |নয়া দিগন্ত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুল ইসলামের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জনতার দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল। এ সময় তিনি বলেন, ভারতের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে না পারলে সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে না।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল সীমান্ত এলাকায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি।

শামীম কামাল বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কোনো সরকারই ভারতের সাথে দেশের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর অবস্থান নিতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে হওয়া চুক্তিগুলোতেও বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ যতদিন ভারতের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে না পারবে, ততদিন অন্যায় ও সীমান্তে নির্যাতন চলতেই থাকবে।’

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভারত পরিকল্পিতভাবে সীমান্তে হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় এক কোটি ১০ লাখ ভারতীয়কে বাংলাদেশে পুশইনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দহগ্রাম সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে শামীম কামাল বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বিএসএফ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করছে, যা উসকানিমূলক ও বেআইনি।

তিনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণ কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু রাজ্য সরকার পরিবর্তনের অল্প সময়ের মধ্যেই সীমান্তে বেড়ার কাজ শুরু হওয়া উদ্বেগজনক। বিজিবির সাম্প্রতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকার যে নির্দেশনা দেবে বিজিবি সেটিই বাস্তবায়ন করবে। তবে সীমান্ত ইস্যুতে সরকারকে আরও আন্তরিক ও দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জোরালো প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বিচারে মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে।”

এ সময় নিহত খাদেমুল ইসলামের বাবা আমজাদ হোসেন দাবি করেন, তার ছেলে মাছ ধরতে গিয়ে গুলির শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার ছেলে নিরস্ত্র ছিল। তারপরও তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।