ঈশ্বরদীতে শ্রেণিকক্ষে কেমিক্যালের বিষক্রিয়ায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

ঈশ্বরদীর মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে রহস্যজনক বিষক্রিয়া বা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা

Location :

Ishwardi
ঈশ্বরদীতে শ্রেণিকক্ষে কেমিক্যালের বিষক্রিয়ায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ
ঈশ্বরদীতে শ্রেণিকক্ষে কেমিক্যালের বিষক্রিয়ায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ |নয়া দিগন্ত

ঈশ্বরদীর মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে রহস্যজনক বিষক্রিয়া বা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে বিদ্যালয়ের বালিকা শাখায় ক্লাস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন থাকলেও সবাই শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির বালিকা শাখায় প্রথমে দুই-তিনজন ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে শিক্ষকরা দ্রুত শ্রেণিকক্ষে গিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই একই শ্রেণির আরো অনেক শিক্ষার্থী মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীর কাঁপা, দুর্বলতা, বমি ও খিঁচুনির মতো উপসর্গে আক্রান্ত হতে থাকে।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।

অসুস্থ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী একটি ছোট কৌটা নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পর সেটি মেঝেতে পড়ে ভেঙে যায়। এরপরই শ্রেণিকক্ষে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাসনা রাণী বলেন, ‘হঠাৎ করেই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে একের পর এক শিক্ষার্থী একই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হতে থাকে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।’

বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘প্রথমে কয়েকজন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে একই শ্রেণির আরো অনেক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়।’

খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, কোনো ঝাঁঝালো বা বিষাক্ত গ্যাসজাতীয় উপাদানের প্রভাবে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, একসাথে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসায় কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল ও হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুস্থতা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে। একই সাথে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

ঘটনার পর বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক অভিভাবক ছুটে এসে সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে যান। প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।