বরিশালের উজিরপুরে পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। একইসাথে বেড়েছে রমজানকেন্দ্রিক সব পণ্যের দাম। বিশেষ করে খেজুর, ফল, কাঁচা বাজার ও মাছ, মাংসসহ ইফতার সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২২টি ছোট-বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির বাজারে বেগুন ৮০-১২০, কাঁচা মরিচ ২০০-২৫০, করলা ১৩০-১৪০, শিম ৫০-৬০, ফুলকপি ৫০-৬০ ও বাঁধাকপি ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি টমেটো ৬০-৭০ টাকা ও মিষ্টিকুমড়া ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ও মাংসের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০-৫০০, টেংরা ৫০০-৬০০, তেলাপিয়া ২০০-৩৫০ ও পাঙাশ ২৫০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম প্রকারভেদে ৮০০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত। সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ টাকা ও গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে। খেসারির ডাল ১০০, মুগডাল ১৫৫, দেশী মসুর ১৬০ ও ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকা ও সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা লিটার।
উপজেলার বিভিন্ন ফলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের খেজুরে কেজিপ্রতি ৪০-১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বর্তমানে জাহিদী খেজুর ৩২০, খুরমা ৩৫০, নাগাল ৪০০, বড়ই ও গাবাজ ৪৮০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কালমি ৭০০-৭৫০, সুক্কারি ৮০০, মাবরুম ৮৫০-১২০০, মরিয়ম ১১০০-১৪০০ ও মেডজুল ১২০০-১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আজওয়া খেজুরের দাম কেজিতে ১৫০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।
ফলের বাজারে কালো আঙুর ৬০০-৭০০, সাদা আঙুর ৫২০-৫৫০, আপেল ৩২০-৩৮০, কমলা ও মাল্টা ৩০০-৩৫০ ও আনার ৪৫০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৬০ টাকা হয়েছে।
শোলক ইউনিয়নের ধামুরা বাজারে ফল কিনতে আসা জাকির হোসেন বলেন, ‘শুনেছি অন্য দেশে রমজান এলে দাম কমে কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। সামান্য অজুহাত পেলেই দাম বাড়ে।’
শারমিন আক্তার নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘ফলের দামে আগুন। অনেকেই হয়তো ফল ছাড়াই ইফতার করবেন।’
শিকারপুর বন্দরের এক পাইকারি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। পরিবহন ব্যয় ও চাহিদা বৃদ্ধিও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।’
ধামুরা সবজির বাজারের আলামিন জানান, ‘রমজানের কারণে সবজির দাম বাড়েনি। শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কম ও চাহিদা বেশি থাকায় কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি। কারণ পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনে শ্রমিক খরচ ও ভ্যান ভাড়া দিয়ে বিক্রি করতে হয়।’
পাইকারি ব্যবসায়ী সজল জানান, ‘এখানে আমাদের কিছু করার নেই। কারণ আড়তদাররা শুধু বিক্রির ওপর কমিশন পান। যার পরিমাণ সারা বছরই সমান থাকে।’
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। কেউ সিন্ডিকেট করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



