ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিএনপি নেতার কার্যালয়ের সামনে কথিত সালিসের নামে নাতিকে মারধর থেকে বাঁচাতে গিয়ে বৃদ্ধ নবী হোসেন (৭০) নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় বিএনপি নেতা ও উস্থি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শামছুল ইসলাম ওরফে ফারুককে প্রধান আসামি করে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরচিয় আরো বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) নিহতের ছেলে বাদী হয়ে পাগলা থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্তসহ অধিকাংশ আসামি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে একটি মুঠোফোন চুরির অভিযোগে নিহতের নাতি মো: রানাকে রোববার সন্ধ্যায় ধরে এনে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার হাটপাড়া বাজারে বিএনপি নেতা শামছুল ইসলামের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে দাদা নবী হোসেন সেখানে গিয়ে নাতিকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’
এদিকে অভিযুক্ত শামছুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, নির্যাতন বা কথিত সালিসের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে কোনো বিচার-সালিস হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যে নির্যাতন ও একজন বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।



