মুরাদনগরে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার, যুবক আটক

শুক্রবার ভোরে লিসার মা তানিয়া আক্তার মেয়েকে স্থানীয় মসজিদের মক্তবে পড়তে দিয়ে বাজারে যান। বাজার থেকে ফিরে মেয়েকে বাড়িতে না পেয়ে তিনি আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় দুই শিশু জানায়, রাসেল মিয়া লিসাকে নিয়ে মোচাগড়া পূর্ব গ্রাম সমিতির পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের দিকে গেছে।

নাজিম উদ্দিন, মুরাদনগর (কুমিল্লা)

Location :

Muradnagar
কুমিল্লার মুরাদনগরে সাত বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে
কুমিল্লার মুরাদনগরে সাত বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে |প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার মুরাদনগরে মক্তব শেষে আর বাড়ি ফেরা হলো না সাত বছরের শিশু লিসা মনির। উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া মধ্যপাড়ার পিপিয়াপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় রাসেল মিয়া (২২) নামের এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয়রা, পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে ওই গ্রামের মোচাগড়া পূর্ব গ্রাম সমিতির পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে লিসা মনির লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত লিসা মনি মোচাগড়া গ্রামের মো: শরীফ মিয়ার মেয়ে। আটক যুবক রাসেল মিয়া একই গ্রামের রবি আলমের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে লিসার মা তানিয়া আক্তার মেয়েকে স্থানীয় মসজিদের মক্তবে পড়তে দিয়ে বাজারে যান। বাজার থেকে ফিরে মেয়েকে বাড়িতে না পেয়ে তিনি আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় দুই শিশু জানায়, রাসেল মিয়া লিসাকে নিয়ে মোচাগড়া পূর্ব গ্রাম সমিতির পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের দিকে গেছে।

খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা ওই সেপটিক ট্যাংকে গিয়ে লিসার নিথর দেহ দেখতে পান। পরে ক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন রাসেল মিয়াকে আটক করলে সে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাসেল মিয়া একজন নেশাগ্রস্ত যুবক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। পরিত্যক্ত ওই সেপটিক ট্যাংকের আশপাশে প্রায়ই সে নেশার আসর বসাত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটিকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাসান জামিল খান বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।