ধামরাই পৌরসভাসহ ১৬ ইউনিয়েনে জমে উঠেছে পৌষ মেলা

ধামরাই পৌরসভাসহ ১৬ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পৌষ মেলা শুরু হয়েছে। একে সাকরাইন মেলা বা পৌষসংক্রান্তি মেলাও বলা হয়। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই মেলাকে বুড়া-বুড়ির মেলাও বলে থাকেন।

Location :

Dhamrai
ধামরাইয়ে পৌষ মেলায় পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা
ধামরাইয়ে পৌষ মেলায় পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা |নয়া দিগন্ত

ঢাকার ধামরাইয়ে জমে উঠেছে পৌষ মেলা। ধামরাই পৌরসভাসহ ১৬ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পৌষ মেলা শুরু হয়েছে। একে সাকরাইন মেলা বা পৌষসংক্রান্তি মেলাও বলা হয়। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই মেলাকে বুড়া-বুড়ির মেলাও বলে থাকেন। ছোট বাচ্চাসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষকে এই মেলায় দেখা যায়।

মেলায় ঘুড়ি ওড়ানোসহ বাড়িতে ব্যবহৃত মাটির তৈরি জিনিসপত্র, ছোট বাচ্চাদের বাহারি খেলনা, নারীদের ব্যবহৃত চুড়িসহ আকর্ষণীয় জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়। পৌষ মেলার বড় আকর্ষণ থাকে রসগোল্লা, মুড়ি, মিষ্টিজাতীয় হরেক রকমের খাবার। মেলায় আসা লোকজন তাদের শখের জিনিসপত্র কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

মঙ্গলবার থেকে এই মেলা বসেছে। ধামরাই পৌরসভার যাত্রাবাড়ি মাঠে ভোর বেলায় এই মেলা বসে। চলে দুপুর পর্যন্ত। তবে কিছু কিছু এলাকায় সকাল থেকে মেলা বসে চলে অনেক রাত পর্যন্ত।

জানা যায়, উপজেলার হাজীপুর, কাকরান, দেপাশাই কাউন্সিল বাজার, কালামপুর, শ্রীরামপুর, বাসনা, বালিয়া, সীতিপাল্লি, সানোড়া, বাড়িগাঁও, নান্নার গোপালপুর, বারবারিয়া, রোয়াইলসহ বিভিন্ন জায়গায় এই মেলা বসে। তবে কোথাও সকালে আবার কোথাও বিকেলে এই মেলা হয়ে থাকে। কোথাও কোথাও তিন দিনব্যাপী চলে এই মেলা। কিন্তু শ্রীরামপুর মাঠে এই মেলা প্রায় মাসব্যাপী চলে। তবে এই দিনে হিন্দুদের পূজাও পালন করা হয়। মেলায় সব ধর্মের লোকই আসে।

বাঙালি সংস্কৃতিতে পৌষ মাসের এই শেষ দিনটি উৎসব মুখর পরিবেশে পালিত হয়। প্রতিবারের মতো এবারও ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মেলায় আগমন করে। মেলায় কুটিরজাত শিল্প সরঞ্জামের জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসে থাকেন দোকানিরা।

পৌষ মেলায় আসা শ্যামল চন্দ্র পাল বলেন, 'যুগ যুগ ধরেই সাকরাইন মেলা বা পৌষসংক্রান্তি মেলা চলে আসছে। পৌষ মাসের শেষ দিন এই মেলা বসে। কোনো কোনো এলাকায় ভোর থেকে শুরু হয় আবার কোথাও বিকেলে বসে চলে রাত পর্যন্ত। কোথাও এক দিন, আবার কোথাও তিন দিন বা এক মাস ধরেও চলে এই মেলা। এখানে হিন্দু মুসলমান সবাই অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় কোনো ভেদাভেদ নেই। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সব ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কোথাও এই মেলাকে বুড়া-বুড়ির মেলাও বলে থাকে। এ মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘুড়ি ওড়ানো।'