৪ মাসেই কুরআনের হাফেজ ৮ বছরের সাজিদ

সাজিদের সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। শিক্ষক ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—সে ভবিষ্যতে কুরআনের শিক্ষা নিজের জীবনে ধারণ করার পাশাপাশি সমাজে দ্বীনি জ্ঞান ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে দেবে।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
হাফেজ মো: সাজিদুর রহমান সাজিদ
হাফেজ মো: সাজিদুর রহমান সাজিদ |নয়া দিগন্ত

বয়স মাত্র আট বছর। এই বয়সে যখন শিশুদের দিন কাটে খেলাধুলা আর দুরন্তপনায়, তখন পবিত্র কুরআন বুকে ধারণের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শিশু মো: সাজিদুর রহমান সাজিদ। মাত্র চার মাসে পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করেছে সে।

ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌর এলাকার আমুয়াকান্দা বাজার মসজিদ মাদরাসার হিফজ শাখা থেকে কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে সাজিদ।

সাজিদ ফুলপুর উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্তা গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আমুয়াকান্দা বাজার মসজিদ মাদরাসার হিফজ শাখায় ভর্তি হয় সে। এরপর শুরু হয় কুরআনের আয়াত হৃদয়ে ধারণের কঠিন সাধনা।

তবে পথটি একেবারেই মসৃণ ছিল না। হিফজের মাঝপথে অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকতে হয় তাকে। শারীরিক অসুস্থতার সেই বাধা পেরিয়ে আবারো মনোযোগ দিয়ে শুরু করে কুরআন মুখস্থের কাজ। শেষ পর্যন্ত মাত্র চার মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ৩০ পারা কুরআন হিফজ করার সৌভাগ্য অর্জন করে শিশু সাজিদ।

সাজিদের এই সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। তার এই অর্জনকে কেবল একজন শিশুর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং কুরআন শিক্ষার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহের একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

গত সোমবার মাদরাসা প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে হাফেজ মো: সাজিদুর রহমান সাজিদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। এ সময় তার সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়।

মাত্র আট বছর বয়সে কুরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার এই অর্জন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। শিক্ষক ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—সাজিদ ভবিষ্যতে কুরআনের শিক্ষা নিজের জীবনে ধারণ করার পাশাপাশি সমাজে দ্বীনি জ্ঞান ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে দেবে।

কুরআনের আলোয় আলোকিত হোক সাজিদের ভবিষ্যৎ—এমন প্রত্যাশাই এখন তার পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।