আশুগঞ্জে দাম না পেয়ে বাজারেই চামড়া ফেলে গেছেন বিক্রেতারা

দেড় লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের গরুর চামড়াও ঈদের দিন দুপুরে মাত্র ৬০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে পড়ে। ক্রেতা না থাকায় অনেকেই চামড়া বাজারেই ফেলে রেখে চলে যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Location :

Brahmanbaria
বাজারে পড়ে আছে গরু, ছাগল ও মহিষের চামড়া
বাজারে পড়ে আছে গরু, ছাগল ও মহিষের চামড়া |নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে আবারো ধস নেমেছে। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অনেক বিক্রেতা গরু, ছাগল ও মহিষের চামড়া বাজারেই ফেলে রেখে চলে গেছেন। এতে হতাশা নেমে এসেছে স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষার্থী, এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

শুক্রবার (২৯ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, আশুগঞ্জ রেলস্টেশনের পাশের নাটাল মাঠে বসা অস্থায়ী চামড়ার বাজারে ঈদের দিন সকাল থেকে চামড়া নিয়ে আসতে থাকেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। শুরুতে কিছু মৌসুমি ক্রেতা চামড়া কিনলেও বিকেলের দিকে গ্রামাঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ চামড়া আসতে থাকলে হঠাৎ করেই দরপতন ঘটে। পরে বাজারে ক্রেতা কমে গেলে অনেক চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দেড় লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের গরুর চামড়াও ঈদের দিন দুপুরে মাত্র ৬০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে পড়ে। ক্রেতা না থাকায় অনেকেই চামড়া বাজারেই ফেলে রেখে চলে যান।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকার মোকামগুলোতে চাহিদা কম থাকায় তারা ঝুঁকি নিয়ে বেশি চামড়া কিনতে পারছেন না। ফলে স্থানীয় বাজারে চামড়ার দাম একেবারেই পড়ে গেছে।

এদিকে অনেকেই বিক্রি করতে না পেরে চামড়া মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করছেন। তবে সংরক্ষণে অভিজ্ঞতার অভাব এবং পর্যাপ্ত লবণের সঙ্কট থাকায় সেসব প্রতিষ্ঠানও চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে।

ঈদের পরদিন (শুক্রবার) দুপুরে নাটাল মাঠ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গরু-মহিষ ও ছাগলের চামড়া স্তূপ আকারে পড়ে রয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

পরে বাজারের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে পরিত্যক্ত চামড়াগুলো অপসারণের কাজ শুরু করা হয়। দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে সেগুলো নৌকাযোগে নদীতে ফেলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়রা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।