দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। রাজশাহী ব্যাটালিয়ন-১ বিজিবি রাজশাহী জেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ১২টি পেট্রোল পাম্পে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
এ ছাড়া রোববার থেকে রাজশাহী রেলস্টেশন সংলগ্ন পদ্মা ও যমুনা অয়েল ডিপো এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা শুরু করেছে। এমনকি সীমান্ত এলাকা পদ্মার চরেও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে বাংলাদেশের চেয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বেশি। তাই বিদ্যমান বিশ্বপরিস্থিতির কারণে একটি অসাধু চক্র জ্বালানি তেল মজুদের পাশাপাশি অধিক মূল্যে বিক্রির আশায় তা সীমান্ত দিয়ে পাচারের চেষ্টা করে আসছে।
রোববার বেলা ১১টায় রাজশাহী রেল স্টেশনের ভেতরে যমুনা অয়েল কোম্পানির রেলহেড ডিপোর সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজশাহী ব্যাটালিয়ান-১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কেউ যাতে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ করতে না পারে এবং সীমান্ত দিয়ে যাতে কেউ তা পাচার করতে না পারে এজন্য টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, রাজশাহী জেলার ৬৪টি পেট্রোল পাম্পের ওপর তারা নজরদারি রাখছেন, যার মধ্যে ১২টি সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। পাচার ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবি এখন পর্যন্ত ১৯২টি স্পেশাল পেট্রোল এবং তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে। এ ছাড়া ২৮৮টি চেকপোস্ট স্থাপন করে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি যানবাহন তল্লাশি করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ পাচার সংঘটিত হতে না পারে। রাজশাহীর স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতাও করছে বিজিবি।
এদিকে রোববারও রাজশাহীর অনেক পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এ ছাড়া সামান্য তেলের আশায় অনেক চালককে দেখা গেছে রাতভর পাম্পের সামনে অবস্থান করতে।
সাধারণ সময়ের তুলনায় হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাম্পগুলোর মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। অনেক পাম্পে তেল নেই লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
তেল সংগ্রহ করতে আসা মো: সজিব বলেন, চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দুই শ’ টাকার তেল পেয়েছি। এখন এ নিয়ে কতখানি চলে দেখি।
আরেকজন ভুক্তভোগী আনিস জানান, মোটরসাইকেল এখন চালানোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইচ্ছে করছে নিজের মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে বাইসাইকেল চালিয়ে কাজ করি।
এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকে বলছেন, সকাল থেকে তেল নিতেই সময় কেটে যাচ্ছে রাস্তায়। দিনের অর্ধেক সময় পাম্পেই চলে যাচ্ছে, ফলে দৈনন্দিন কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।



