অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) সংসদীয় আসনটি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই আসনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এস এন তরুন দে। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
পাশাপাশি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাও ছিলেন এই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী।
দলের মনোনয়ন না পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এস এন তরুন দে বলেন, জোটের স্বার্থে বিএনপি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জন্য এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আমি সবসময় তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। ৫ আগস্টের পরও দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছি। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি।
তিনি আরো বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ আমাকে ভোটের মাঠে দেখতে চায়। পাশাপাশি আমার নির্বাচনী এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৮০ হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটারও আমাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহী। তাই সকলের আশীর্বাদে আমি নির্বাচনে অংশ নেব। শিগগিরই আমার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হবে।
স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে দল কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তরুন দে বলেন, এটি দলের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমি নির্বাচন করার বিষয়ে ডিটারমাইন্ড।
সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ও চান্দুরা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে তরুন দে ছাড়াও অন্তত অর্ধডজন নেতা বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ইতোমধ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই তাদের শরিকদের জন্য এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল। বর্তমানে দাড়ি-পাল্লা প্রতীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন এই আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।



