বরিশালের বানারীপাড়ায় স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে হাবিবুর রহমান(৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নলশ্রী গ্রামে হাবিবুর রহমান মোল্লার (৫৫) এই অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নলশ্রী গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছোট ছেলে সাগর বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীদের জানায়, সাগরের বাবা রাতে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। পরে ওইদিন (১ মে) গোসলের জন্য তার লাশ খাটিয়ায় নামানোর সময় স্থানীয় লোকজন মৃত হাবিবুর রহমানের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের ক্ষত চিহ্ন দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়।
সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়ে থানা পুলিশের আফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে হাবিবুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছেলে সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনে হত্যা করার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাদেরকে আটক এবং লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
এ সময় তারা নিহতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলেও জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় বরিশাল সিআইডি পুলিশের একটি টিম ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নিহত হাবিবুর রহমানের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ওইদিন (১ মে) বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগে জানায়, ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছোট ছেলে সাগর।
এলাকাবাসী আরো জানায়, হাবিবুর রহমান মোল্লার সাথে তার পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিলো। ওইদিন রাতে হাবিবুর রহমান ঘরে আসার পরে স্ত্রী'র সাথে ঝগড়া-বিবাদ হলে স্ত্রী-সন্তান মিলে তার ওপর নির্যাতন চালায় ও ব্যাপক মারধর করে। এর ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ক্ষত চিহ্ন ও দেখা গেছে।
স্থানীয়রা আরো জানায়, নিহতের বড় ছেলে বিদেশ যাওয়ার পরে হাবিবুর রহমান তেমন কোনো কাজ-কর্ম করেন না। এ নিয়ে স্ত্রী সেলিনার সাথে প্রায়ই তার ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। প্রবাসী বড় ছেলে মায়ের কাছে সংসারের খরচ বাবদ টাকা ও বাবার জন্য আলাদা খরচ পাঠাতো। কিছুদিন পূর্বে বাবার জন্য আলাদা ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। সেই টাকা স্ত্রী সেলিনা বার-বার চাইলেই ও হাবিবুর রহমান দিতে অস্বীকৃতি জানালে এ নিয়ে তাদের কয়েকদিন যাবত ঝগড়া লেগেছিলো। বড় ছেলের সেই ১০ হাজার টাকার জন্য ও তাকে হত্যা করা হতে পারে ধারণা করছে প্রতিবেশীরা।
এ ছাড়া ইতিপূর্বেও স্ত্রী ও ছোট ছেলে আরো ২/৩ বার তাকে ব্যাপক মারধর করেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও স্ত্রী এবং ছোট ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছোট ছেলে সাগরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাবিবুর রহমানকে নির্যাতন করে হত্যার সত্যতা পাওয়ায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তদন্তের স্বার্থে তিনি পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।



