ছুরিকাঘাতে চাচাকে হত্যা, ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড

বাড়ির চলাচলের রাস্তা না দেয়ায় ছিদ্দিককে হত্যার পরিকল্পনা করেন আসামি সারোয়ার। সেই পরিকল্পনা ও ক্রাইম পেট্রোল দেখে ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা দক্ষিণ থানার চাঁদপুর নামক স্থানের হাজারী পাম্পের দক্ষিণ পাশে ইতালি প্রবাসী মো: মাহবুবুর রহমান শামীমের বাড়ির চতুর্থ তলায় ফোন করে ডেকে নিয়ে তাকে প্রথমে আটকে রাখেন এবং পরে রাতে মারধর ও শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করেন।

চাঁদপুর প্রতিনিধি

Location :

Chandpur
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সারোয়ার আলম
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সারোয়ার আলম |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে বাড়ির সম্পর্কে চাচা মো: ছিদ্দিকুর রহমান ছিদ্দিককে (৩৭) হত্যার দায়ে ভাতিজা মো: সারোয়ার আলমকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

একই আসামিকে অপর ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, চার হাজার টাকা জরিমানা ও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় দেন।

হত্যার শিকার ছিদ্দিকুর রহমান কুমিল্লা জেলা সদর দক্ষিণ থানার রাজাপাড়া এলাকার কাজীপাড়া গ্রামের সফর আলী বাড়ির মরহুম আমির হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন এবং তার তিন বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান ছিল।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো: সারোয়ার আলম একই বাড়ির মো: বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী।

মামলার এজাহার ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রাঢ়া রাজাপুরা চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি কালো ড্রাম দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পুলিশকে জানালে পুলিশ লোকজনের উপস্থিতিতে ওই ড্রাম খুলে ভেতরে ছিদ্দিকের লাশ দেখতে পায়। পরে লাশ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: আব্দুল আউয়াল অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এর আগে, ছিদ্দিক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা দক্ষিণ থানায় জিডি হয়। ওই জিডির সূত্র ধরে পরিবারের লোকজন লাশ শনাক্ত করে।

মামলার পরে ঘটনাটি তদন্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুরের পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান। তিনি ঘটনাটি তদন্তকালে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার মিয়ার বাজার এলাকা থেকে আসামি সারোয়ার আলমকে গ্রেফতার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করেন। তদন্ত শেষে তিনি ২০২১ সালের ২ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাড়ির চলাচলের রাস্তা না দেয়ায় ছিদ্দিককে হত্যার পরিকল্পনা করেন আসামি সারোয়ার। সেই পরিকল্পনা ও ক্রাইম পেট্রোল দেখে ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা দক্ষিণ থানার চাঁদপুর নামক স্থানের হাজারী পাম্পের দক্ষিণ পাশে ইতালি প্রবাসী মো: মাহবুবুর রহমান শামীমের বাড়ির চতুর্থ তলায় ফোন করে ডেকে নিয়ে তাকে প্রথমে আটকে রাখেন এবং পরে রাতে মারধর ও শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করেন। সেখান থেকে পরদিন ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে এবং ড্রামে লাশ ডুকিয়ে চাঁদপুরের রাঢ়া রাজাপুরা নামক স্থানে ফেলে অটোরিকশায় কুমিল্লায় চলে যান আসামি সারোয়ার।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শাওন।

পিপি কুহিনুর বেগম বলেন, ‘মামলাটি পাঁচ বছরের অধিক সময় চলাকালে আদালত ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামি তার অপরাধ স্বীকার করায় তার উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় দেন। এই মামলায় অপর আসামি সারোয়ারের আপন ভাই নুরে আলমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।