বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ৬ কোটি টাকার পণ্য আটক

বেনাপোল বন্দরে বেকিং পাউডার ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের শাড়ি, থ্রিপিস ও বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী সামগ্রী আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

রাশেদুর রহমান রাশু, বেনাপোল (যশোর)

Location :

Jashore
আটক করা পণ্যের চালান
আটক করা পণ্যের চালান |নয়া দিগন্ত

যশোরের বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের শাড়ি, থ্রিপিস ও বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী সামগ্রী আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে এসব পণ্য আটক করা হয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, সাফা ইমপেক্স নামে একটি আমদানিকারক বেকিং পাউডার ঘোষণা দিয়ে ১০০ প্যাকেজ শাড়ি, থ্রিপিস ও বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী আমদানি করে বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে আনলোড করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করে দেখা যায়, আমদানিকারক বেকিং পাউডার না এনে সেখানে উচ্চ শুল্ক মূল্যের শাড়ি, থ্রিপিস ও বিভিন্ন ধরনের প্রসাধন সামগ্রী আমদানি করেছে।

মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্য চালানগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাত হাজার পিস উন্নত মানের শাড়ি, ছয় হাজার পিস থ্রিপিস, ৩০০ পিস টুপিস, ৩০০ কেজি বেবি ওয়ার, ৫৫০ পিস ওড়না, ৬০০ কেজি ফেসওয়াশ, ১০০ কেজি বডি লোশন এবং বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ৬০০ কেজি। যার বাজার মূল্য প্রায় ছয় কোটি টাকা বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, একটি চক্র বন্দরের শেড ইনচার্জদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করছেন। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্য আটক করলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে সিন্ডিকেটের সদস্যরা বারবার একই কাজ করছেন। আর এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদের সহযোগিতা করছেন বন্দরের শেড ইনচার্জ থেকে শুরু করে বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই এসব কাজ প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছেন তারা।

গত রোববার একইভাবে আরেকটি চালান কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আটক করে। সে চালানটিতে ঘাসের বীজ ঘোষণা দিয়ে ১৭ টন পাটের বীজ আমদানি করা হয়। সরকারি ছুটি থাকায় এ ব্যাপারে কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে বেনাপোলের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা পণ্য চালানটি আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাতেই চালানটি আটক করতে সক্ষম হয়। পণ্য চালানটির মূল্য প্রায় ছয় কোটি টাকা।’