ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : বাণিজ্যমন্ত্রী

এ সময় তিনি আইনজীবীদের ঐক্য, পেশাগত উৎকর্ষ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
কথা বলছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
কথা বলছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির |ছবি : নয়া দিগন্ত

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

শনিবার (২৭ জুন) দুপরে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদানকারী নবীন আইনজীবীদের কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রে বিচারহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হলে সামাজিক চুক্তি ও আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার সমতা, বৈষম্যহীনতা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে আইনজীবীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমাজের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিকূল সময়ে বহু বিচারপতি ও আইনজীবী ব্যক্তিগত ও পেশাগত ঝুঁকি নিয়েও আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখতে দৃঢ় ভূমিকা পালন করেছেন। সিলেটের আইনজীবী ও বিচারকরাও এ ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।’

তিনি অতীতের বিভাজন ভুলে দেশের উন্নয়ন ও বিচারব্যবস্থার অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ও নিয়মিত প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইনবিষয়ক গবেষণা, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং আদালতে কার্যকর উপস্থাপনার ওপর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইনজীবীদের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দক্ষ আইনজীবী ও বিচারক তৈরিতে সহায়ক হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার সময় অনলাইন জুয়া প্রতিরোধকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিলাম। এ লক্ষ্যে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই পাস হবে।’

একইসাথে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকার, বিচার বিভাগ, আইনজীবী এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’

এ সময় তিনি আইনজীবীদের ঐক্য, পেশাগত উৎকর্ষ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম ইয়াহইয়া চৌধুরীর (সুহেল) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: জুবায়ের বখত জুবের, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ, বিভাগীয় স্পেশাল জজ এম আলী আহমদ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: হাসাম ইমাম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।