বুড়িচংয়ে ফসলী জমির উর্বর মাটি যাচ্ছে নির্মানাধীন বাড়ি ও ইট ভাটায়

স্থানীয় প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে এবং রাস্তায় মাটি ফেলার কথা বলে মাটি কাটার সিন্ডিকেট প্রতিনিয়তই এসব মাটি কাটছে।

বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

Location :

Cumilla
ফসলী জমির মাটি যাচ্ছে নির্মানাধীন বাড়ি ও ইট ভাটায়
ফসলী জমির মাটি যাচ্ছে নির্মানাধীন বাড়ি ও ইট ভাটায় |নয়া দিগন্ত

বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলের মাঠের মাটি ও সীমান্তবর্তী এলাকার পাহাড়ের মাটি ড্রেজার দিয়ে কেটে ঘর-বাড়ি নির্মাণের জন্য নেয়া হচ্ছে। রাত হলেই শুরু হয় এ মাটি কাটার উৎসব।

স্থানীয় প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে এবং রাস্তায় মাটি ফেলার কথা বলে মাটি কাটার সিন্ডিকেট প্রতিনিয়তই এসব মাটি কাটছে।

পূর্বহুড়া গ্রামের এক কৃষক বলেন, ‘রাতে আমাদের ফসলী জমি জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যায়। বাঁধা প্রদান করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি-ধামকি দেয়। এ জমিতে ধান উৎপাদন করে আমার সংসার চলে। এখন আমি কোথায় যাবো, কার কাছে বিচার চাইবো।’

বুড়িচং উপজেলা রাজাপুর ইউনিয়নের বারেশ্বর গ্রামের জাকির হোসেন এবং বুড়িচং পৌরসভার পূর্ণমতি গ্রামের জাহাঙ্গীর এর নেতৃত্বে দরিয়াপাড়ের পূর্বপাশে এবং বারেশ্বর দক্ষিণপাশে মাঠে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন চালিত হচ্ছে।

একই উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন বারেশ্বর গ্রামের নাবু ও ওহাব মেম্বারের নেতৃত্বে বারেশ্বর উত্তর মাঠে চারটি ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে মাটি কাটা হচ্ছে।

বুড়িচং পৌরসভার মাহাবুব পৌরসভার কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন ফসলের মাঠের মাটি কাটে নষ্ট করছেন।

বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্যামপুর সুমন নামের এক ব্যক্তি গত এক বছর যাবত প্রায় এক একর জমির মাটি কেটে নিয়ে গেছেন তিনটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে।

দক্ষিণ শ্যামপুরের সুমন, জগতপুর গ্রামের মাহাবুব, পূর্ণমতি গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনে-রাতে অনবরত ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে মাঠের পর মাঠ জলাশয়ে পরিণত করছেন।

শংকুচাইল বাজারের উত্তর পাশের হবে হিন্দরী ব্রিজ পশ্চিম পাশের মাঠ থেকে ভেকু ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে রাতে মাটি কাটা হয়।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: তানভীর হোসেন বলেন, ‘অতি দ্রুতই ফসলী মাঠের মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে।’