নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় গভীর রাতে মোবাইলফোনে ডেকে নেয়ার পর রাসেল শেখ হাসু (৩৮) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের দেওয়াডাঙ্গা গ্রামে নিজ ঘরের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হাসু শেখ ওই গ্রামের আকবর শেখের ছেলে। বাড়ির পাশে হাসুর নিজের মুদিদোকান ছিল।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মিলন শেখকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। মিলনকে আটকের পর উত্তেজিত জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তবে, পুলিশের প্রচেষ্টায় সেটা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হাসুর বড় ভাই সাদ্দাম শেখ বলেন, আমার ছোট ভাই হাসুকে মিলন শেখ শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর কখন হাসু বাড়ি এসেছে, অথবা কেউ তাকে বাড়িতে রেখে গেছে কি-না, তা বুঝতে পারিনি। আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে হাসুর ঘরের দরজা খোলা দেখতে পাই। বিষয়টি সন্দেহ হলে ঘরের ভেতরে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে হাসুকে মৃত ঘোষণা করেন তিনি। তার মুখে ফেনা ও লালা ঝরছিল।
সাদ্দাম শেখ অভিযোগ করে বলেন, হাসুকে ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করা হয়েছে। তার পিঠে ইনজেকশনের ছিদ্র পাওয়া গেছে। মিলনের সাথে আরো কয়েকজন ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের ধারণা, দোকানের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কারণে হাসুকে ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করা হয়েছে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী জানান, লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মিলন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



