নাড়ির টান আর পরিবারের মায়া কাটিয়ে জীবিকার তাগিদে আবারো যান্ত্রিক শহর ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে উত্তরবঙ্গের মহাসড়কগুলোতে, বিশেষ করে বগুড়ার শেরপুরের আন্তঃজেলা কোচ টার্মিনালে।
তবে ফিরতি এই যাত্রায় গণপরিবহনের সঙ্কট আর ভাড়ার নৈরাজ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও মিলছে না বাসের টিকিট। নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাকে বা লক্কর-ঝক্কর বাসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার পথ ধরছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের হাজারো মানুষ।
সরকারি কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর বাস কিন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এক্ষেত্রে একেবারেই নির্বিকার!
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকে বগুড়ার শেরপুরের ধুনটমোড় কোচ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী প্রতিটি রুটেই এখন মানুষের জনস্রোত।
ফিরতি বাসের টিকিট যেন ‘সোনার হরিণ’। নামি-দামি পরিবহনগুলোর কাউন্টারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাচ্ছেন না যাত্রীরা। এই সুযোগে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মেতেছেন ভাড়া বাড়ানোর প্রতিযোগিতায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকাগামী খোলা ট্রাকে যাত্রী প্রতি ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা। লোকাল করতোয়া ও বিভিন্ন ভাঙ্গাচোরা লক্কর-ঝক্কর বাসে সিট প্রতি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৬০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত।
রফিকুল, আনিছ, এয়াকুব আলী ও রোকেয়াসহ একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, এসআর, হানিফ, নাবিল, শাহ-ফতেহ আলী, একতা, শ্যামলীসহ বড় পরিবহনগুলোতে কোনো টিকিট নেই। এই সুযোগে অন্য পরিবহন ও ট্রাক চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। তেলের সঙ্কটের অজুহাত দেখিয়ে ট্রাকেও গত বছরের চেয়ে এবার বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে।
বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ তুলে যাত্রী তানভীর বলেন, কাউন্টারে গেলে টিকিট নেই বলছেন। যাত্রীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে লক্কর-ঝক্কর বাস মালিকরা পকেট কাটছে খেটে খাওয়া মানুষগুলোর। বাধ্য হয়ে অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকেই রওনা হচ্ছেন কর্মস্থলের উদ্দেশে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই ফেরার পথে এমন নৈরাজ্যের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
তবে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ মানতে নারাজ বাস কাউন্টারের মালিক ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, ঈদের সময় একমুখী চাপের কারণে ভাড়ার তারতম্য হয়।
একতা, হানিফ, নাবিলসহ অনেক কাউন্টার মালিক জানান, অধিকাংশ বাস নওগাঁ ও রংপুর থেকে ছেড়ে আসে। যাত্রীরা আগে থেকেই টিকিট বুকিং দিয়ে রাখেন। ফলে পেছনের স্টেশন থেকে সিট ফাঁকা রেখেই বাসগুলোকে বগুড়া পর্যন্ত আসতে হয়। এ কারণে মাঝপথে যাত্রী উঠলে তাদের নওগাঁ বা রংপুরের ভাড়াই দিতে হচ্ছে।
তবে, বাস মালিকদের এমন যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন সাধারণ যাত্রীরা।
এ বিষয়ে বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকলেও কাউন্টারে অতিরিক্ত কোনো ভাড়া নেয়া হচ্ছে না।
বাইরের কিছু গাড়ি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে স্বীকার করে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি নেয়া এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে অতিদ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



